গাজীপুর-৩ আসনে ভোটযুদ্ধের প্রস্তুতি হলফনামায় প্রার্থীদের সম্পদে বড় পার্থক্য

Printed Edition
গাজীপুর-৩ আসনে ভোটযুদ্ধের প্রস্তুতি হলফনামায় প্রার্থীদের সম্পদে বড় পার্থক্য
গাজীপুর-৩ আসনে ভোটযুদ্ধের প্রস্তুতি হলফনামায় প্রার্থীদের সম্পদে বড় পার্থক্য

মো: আব্দুল আজিজ, জয়দেবপুর (গাজীপুর)

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর ও গাজীপুর সদর) আসনে ভোটের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। এই আসনে ১৮০টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি ভোটকক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬০ হাজার ১৯০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৬৭ হাজার ১৬২ জন এবং ট্রান্সজেন্ডার ভোটার রয়েছেন ৭ জন।

নির্বাচনে অংশ নিতে এই আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে সাত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গাজীপুর জেলা আমির অধ্যাপক ড. মো: জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা: এস এম রফিকুল ইসলাম (বাচ্চু), জাতীয় পার্টির মো: নাজিম উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলমগীর হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ এহসানুল হক, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) আশিকুল ইসলাম পিয়াল এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মো: কৌশিক আহমেদ।

বাকি তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো: ইজাদুর রহমান চৌধুরী এবং ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমদ তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেছেন।

প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা ও আয়কর রিটার্ন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সম্পদ ও আয়ের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে বড় ধরনের বৈষম্য। বিএনপির প্রার্থী এস এম রফিকুল ইসলাম (বাচ্চু) তার হলফনামায় বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ ১৯ হাজার ৬৮ টাকা এবং ব্যয় ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তিনি ২০ ভরি স্বর্ণের কথা উল্লেখ করলেও এর কোনো আর্থিক মূল্য দেখাননি। তার নগদ অর্থ রয়েছে ২০ লাখ ৪৮ হাজার ৭২৪ টাকা, ব্যাংকে জমা ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৪৯৩ টাকা এবং সঞ্চয়পত্রে ৭ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা। যানবাহনের মূল্য দেখানো হয়েছে ২৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবপত্রের মূল্য ৪০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য সম্পদ ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে পৈতৃক অকৃষি জমি ৮.২৫ শতাংশের মূল্য ২৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ঢাকার গ্রিন রোডে ৮৩০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা। যদিও হলফনামায় স্ত্রী ও নির্ভরশীলদের সম্পদের বিস্তারিত তথ্য নেই, তবে স্ত্রীর নামে ২৯ লাখ ৭৮ হাজার ৯৫৪ টাকা এবং সন্তানের নামে ৮৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৪০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী অধ্যাপক ড. মো: জাহাঙ্গীর আলমের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ২৭ হাজার ৩৬৬ টাকা এবং ব্যয় ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার মোট সম্পদের পরিমাণ এক কোটি টাকার নিচে। নগদ অর্থসহ মোট সম্পদের আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ৫০ লাখ ২৭ হাজার ৯৩৭ টাকা। যৌথ মালিকানায় ২.৫ শতাংশ জমির মূল্য ৭৫ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ ৪৪ হাজার ৬৯৬ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ১৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তার ঘোষিত মোট সম্পদ ৫১ লাখ ২ হাজার ৯৩৭ টাকা।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ইজাদুর রহমান চৌধুরীর হলফনামায় বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ৫৬২ টাকা। তিনি নগদ অর্থ দেখিয়েছেন ৫ কোটি ৪৪ লাখ ৩৯ হাজার ২২৪ টাকা। তার অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ৫ কোটি ৭৭ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৩ টাকা এবং স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট সম্পদের মূল্য ৭ কোটি ৮৭ লাখ ৭৫ হাজার ৪২২ টাকা। তার নামে আগ্নেয়াস্ত্রও রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো: নাজিম উদ্দিন বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তার অস্থাবর সম্পদ ১১ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর ১০ লাখ ১৯ হাজার ৪০০ টাকা। তাদের নামে যৌথ ঋণ রয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৭৯ হাজার ৪০০ টাকা।

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আলমগীর হোসাইনের বার্ষিক আয় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তার অস্থাবর সম্পদ ৫০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নামে ২ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ এহসানুল হকের বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বাসদের আশিকুল ইসলাম পিয়ালের বার্ষিক আয় ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এবি পার্টির প্রার্থী মো: কৌশিক আহমেদের বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা এবং মোট সম্পদ দেখানো হয়েছে ১৭ লাখ ৬ হাজার ২০০ টাকা।

সব মিলিয়ে গাজীপুর-৩ আসনে এবারের নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাই নয়, প্রার্থীদের সম্পদ ও আর্থিক অবস্থার দিক থেকেও ভোটারদের সামনে একটি স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে।