নয়া দিগন্ত ডেস্ক
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় বাস খাদে পড়ে পাঁচজন নিহত ও কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে দুই বন্ধুর।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত ও কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের খোকসা বিলজানি এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের সাথে ড্রাম ট্যাকের সংঘর্ষে বাসটি পাশের খাদে উল্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের লাশ খোকসা ও কুষ্টিয়া হাসপাতালে নেয়া হয়েছে আর আহত ৩০ জনকে খোকসা, কুমারখালী ও কুষ্টিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আহতের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, তানহা পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-১৩-০০৯৩) রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়ার দিকে আসছিল। পথে খোকসা শিয়ালডাঙ্গী মসজিদের সামনে পৌঁছলে একটি ভ্যান বাঁচাতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী ট্রাকের (বগুড়া ঢ ১১-২৭০৩) সাথে ধাক্কা লেগে বাসটি খাদে পড়ে যায়। দ্রুত এলাকাবাসী বাসযাত্রীদের উদ্ধার করে এবং বাসটি পানি থেকে পাড়ে তুলতে সক্ষম হয়। এতে হতাহতের সংখ্যা কমে যায়। ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয় এবং কুষ্টিয়া জেনালে হাসপাতালে আরো তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নিহতেরা হলেন- হায়দার আলী-৬০, দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপ নগর গ্রামের রুহুল আমীনের মেয়ে রাফিয়া আক্তার-১৬ আর খোকসা হাসপাতালে খোকসা উপজেলার কমলাপুর গ্রামের জুনায়েদ আহমেদের ছেলে নাবিল-২৪ এবং অপর দুইজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ১৬ জন ভর্তি হয়েছে এদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছে।
পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ায় একটি দ্রুতগামী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুইবন্ধু নিহত ও অপর আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত মোটরসাইকেল আরোহীকে মুমূর্ষু অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল মহাসড়কের পটিয়া কমল মুন্সীর হাট আনসার ক্যাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হচ্ছে চট্টগ্রামের পটিয়া কচুয়াই ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের শেখ মোহাম্মদ পাড়ার আকবর হোসেনের ছেলে ইউনিয়ন কৃষি উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র মোহাম্মদ সামির (১৬), অপরজন জাহিদুল ইসলামের ছেলে রাহাত আলী উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র মোহাম্মদ তসলিম (১৬), আহত হয়েছেনএকই গ্রামের আব্দুল আলীমের ছেলে মোহাম্মদ জয় (১৭)।
জানা যায় বাড়ি থেকে কমল মুন্সীর হাট যাচ্ছিল মোটরসাইকেলে (চট্ট-মেট্রো ল ১৩-০৮৭৬) করে ওই তিন বন্ধু। এ সময় চট্টগ্রামমুখী বেপরোয়া গতির একটি যাত্রীবাহী বাস (চট্ট-মেট্রো-ব-১১-০৩৮২ হানিফ পরিবহনের) তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে সামির নিহত হয় এবং অপর আহত দুইজনকে পটিয়া হাসপাতালে নিলে সেখানে তসলিমের মৃত্যু হয় এবং আহত মো: জয়কে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।



