- বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য শুধু পাগল নয় ডাবল পাগল হয়ে গেছে: চরমোনাই পীর
- গণভোট চায়না বলেই বিএনপি সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট চায়: অধ্যাপক মুজিব
রংপুর ব্যুরো
বিচার ও সংস্কার দৃশ্যমান না করেই বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য শুধু পাগল নয়, ডাবল পাগল হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন চরমোনাই পীর ও সমমনা আট দলের শীর্ষ নেতা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। আর জামায়াতের নায়েবে আমির সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন বিএনপি চায় না জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হোক। সে কারণেই তারা হাঁ ভোট নয়, না ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ জন্য তারা গণভোট জাতীয় নির্বাচনের দিন চাইছেন।
গতকাল বুধবার বিকেলে রংপুরে কালেক্টরেট মাঠে বিভাগীয় সমাবেশে এসব অভিযোগ করেন তারা। জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, বাংলাদেশ নেজামী ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, দিনজাপুর-রংপুর অঞ্চল পরিচালনা কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, মহানগর আমির এ টি এম আজম খান, জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, মহানগর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি আমিরুজ্জামান পিয়াল, জেলা সভাপতি এ টি এম গোলাম মোস্তফা বাবু, মহানগর শিবির সভাপতি নুরুল হুদাসহ বিভাগের আট জেলার নেতৃবৃন্দ।
সকাল থেকেই রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে কয়েক লাখ নেতাকর্মী দাঁড়িপাল্লা, হাতপাখাসহ আট দলের প্রতীক সংবলিত প্লেকার্ড নিয়ে সমাবেশে অংশ নেন। বক্তব্যের মাঝে মধ্যে পরিবেশন হয় ইসলামী সঙ্গীত।
ইসলামী আন্দোলনের আমির চরমোনাই পীর বিএনপির প্রতি অভিযোগ করে বলেন, ‘আজকে দুঃখ হয় এতগুলো মায়ের কোল সন্তান হারা হলো। এত মানুষ পঙ্গু হলো। চোখ হারালো। আমাদের যে মৌলিক দাবিগুলো ছিল মৌলিক সংস্কার হবে। খুনি, গুমকারী এবং টাকা পাচারকারীদের দৃশ্যমান শাস্তি হবে। এরপরে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে। নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম এক শ্রেণীর ক্ষমতা লোভীরা সংস্কার ও দৃশ্যমান বিচারকে গুরুত্ব না দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য শুধু পাগল নয়, ডাবল পাগল হয়ে গেছে।’
জুলাই বিপ্লব একদলকে নামিয়ে অন্য দলকে বসানোর জন্য হয়নি দাবি করে চরমোনাই পীর বলেন, ‘আমি সকলকে বলতে চাই, আজকে হাজার হাজার আলেম, হাফেজ ছাত্র, মায়ের কোলের সন্তান এবং ছাত্র-জনতা যে জীবন দিয়েছিল শুধুমাত্র কি, একজনকে নামিয়ে আরেকজনকে ক্ষমতায় পাঠাবার জন্য। স্বাধীনভাবে আমাদের দেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার জন্য এরা জীবন দিয়েছিল। এ দেশকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করতে এবং খুনিদের হাত থেকে দেশকে রক্ষার জন্য আমাদেরকে প্রয়োজনে লড়াই করতে হবে। ’
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে চরমোনাই পীর বলেন, ‘আজকে তারা (বিএনপি) যদি বুঝতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পরিষ্কারভাবে এই সমাবেশের মাধ্যমে আমরা বলতে চাই, আপনারা মনে করেছিলেন ক্ষমতায় যাবেন, সেদিন সে সময় ভুলে যান। আজকে বাংলাদেশ যারা ভালোবাসে, যারা ইসলামকে ভালোবাসে, যারা মানবতার কল্যাণ রক্ষার জন্য চিন্তা করে। তারা আজ রাজপথে নেমে এসেছে। আজকে ক্ষমতা প্রেমিকদেরকে বলবো যে আপনারা বারবার ক্ষমতায় গিয়ে কী উপহার দিয়েছেন। নতুনভাবে পুরান বউ নতুন শাড়িতে আর আমাদের ধোঁকা দিতে পারবেন না। ধোঁকা দেয়ার দিন শেষ; ইসলামের বাংলাদেশ। এ দেশ রক্ষার জন্য রাজপথে আমরা উপস্থিত হয়েছি।’
একটি পক্ষ ক্ষমতায় গিয়ে আবারো গুন্ডামি এবং কালো টাকার দৌরাত্ম্যের রাজত্ব করতে চায় অভিযোগ করে মুফতি রেজাউল বলেন, ‘এ দেশকে নিয়ে যারা ছিনিমিনি করতে চায়। এ দেশের টাকা যারা বিদেশে পাচার করতে চায়, যারা মায়ের কোল সন্তানহারা করতে চায়,’ তাদের বলতে চাই, এই জনতাকে আর থামানো যাবে না। আল্লাহর রহমতে ইসলামের বিজয় হবে ইনশা আল্লাহ।
বিএনপি গণভোট চায় না : জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘গণভোটের মাধ্যমে ভোটের চরিত্র পাল্টাতে হবে। কিসের জন্য গণভোট দেবে সেটা হচ্ছে, যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হতে পারছে না।
এই গণভোট হওয়াটা জাতির জন্য ভালো লক্ষণ। আর না হওয়াটা খারাপ লক্ষণ। যারা গণভোট চায় তারা জনগণের জন্য ভালো কিছু করতে চায়। আর যারা গণভোট হতে দিতে চায় না অথবা গণভোটের রেজাল্ট যেন না আসে, সেজন্য গণভোট যেদিন হবে সেই দিনই তারা সংসদ নির্বাচন চায়।
সংসদ নির্বাচনের আগে কেন গণভোট হওয়ার প্রয়োজন সেই যুক্তি দিয়ে জামায়াত নেতা অধ্যাপক মুজিব বলেন ‘গণভোট ঠিক করবে সংসদ নির্বাচনকে। কিন্তু একই দিনে যদি গণভোট হয় তাহলে এর রায় সংসদ নির্বাচনকে ভালো কিছু দিতে পারবে না। আগামী দিন যখনই হোক যেভাবেই হোক সংসদ নির্বাচনের আগেই আমরা গণভোট চাই। এ সময় তিনি সবাইকে হাত উঠিয়ে গণভোটের পক্ষে রায় দেয়ার আহবান জানান। তখন সবাই হাত উঠান। এরপর তিনি বলেন, আপনারা গণভোটের পক্ষে জয়যুক্ত হয়েছেন বলুন। যারা গণভোটের বিপক্ষে তারা পরাজিত হবে ইনশা আল্লাহ। তাদের এই পরাজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না’ কুরআনের জন্য যুদ্ধ করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, ‘আর একটা যুদ্ধ আছে, সেই যুদ্ধ হচ্ছে ইসলাম কায়েম করার যুদ্ধ। বদর উহুদ যুদ্ধে সাহাবারা যেভাবে জীবন দিয়ে কুরআনের আইন চালু করেছেন সেই সাহাবিদের অনুসরণে আপনাদের আমাদেরকে যুদ্ধ করতে হবে। বাংলাদেশের মাটিতে কুরআনের আইনের জন্য আমরা যুদ্ধ করব ইনশা আল্লাহ।
এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, আমাদের তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। অনেক শক্তি আজকে বাধা দিচ্ছে, যার কারণে ভারত থেকে তিস্তার ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছি না। আমাদেরকে শুকিয়ে মারার ব্যবস্থা হয়েছে। যারাই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। আজকে ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে উত্তবঙ্গের চার কোটি মানুষের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এ অবস্থা থেকে দেশকে বেরিয়ে আসতে হবে।
৫৪ বছরে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল সমস্যা আমরা সুশাসন পাইনি। যারাই যখন ক্ষমতায় এসেছেন এক দলীয় শাসন কায়েম করেছেন। মনের অধিকারকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। আর এক সমস্যা আমাদের বিচারহীনতা। আইনের শাসন নেই। এমনকি তারা আদালত পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করেছিল; এই অবস্থায় সাড়ে ১৫ বছরে গণবিস্ফোরণ হলো। অনেকে এটাকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলে থাকেন। কেনো বলা হয়। আমরা শুধু দু’শাসন থেকে মুক্তি পাই নাই। আমরা আধিপত্যবাদী শক্তির হাত থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পেয়েছি।
মূল্যবান ভোট মূল্যবান জায়গায় দেয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত নেতা আজহার বলেন, ‘আগামী নির্বাচন আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আজকে আট দলের যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে আমাদের বিশ্বাস জণগণ ইসলামপ্রেমী ও দেশপ্রেমীকে বাছাই করে নেবে ইনশাআল্লাহ্। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। ২৪ এর ৫ আগস্টের পরে পরিবর্তন শুরু হয়েছে। এই পরিবর্তনকে স্থায়ী রূপ দিতে হলে আগামী নির্বাচনে আপনার মূল্যবান ভোট মূল্যবান জায়গায় দিতে হবে।



