পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলন ব্যর্থ

Printed Edition

এএফপি

টানা চার সপ্তাহ ধরে জাতিসঙ্ঘের সদস্য দেশগুলোর নিবিড় আলোচনার পরও পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও নিরস্ত্রীকরণের বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রায় কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে বিশেষ সম্মেলন। কোনো ধরনের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হওয়ায় শুক্রবার গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মেলনটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে বলে ঘোষণা দেন এর সভাপতি।

সম্মেলনের সভাপতি ভিয়েতনামের দো হুং ভিয়েত হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমাদের সব ধরনের চেষ্টার পরও সম্মেলনটি মূল বিষয়ের ওপর কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।’ তিনি আরো জানান, বৈশ্বিক রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একতা না আসায় এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পেশ করার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্বজুড়ে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের মূল ভিত্তি ‘পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি’ (এনপিটি) পর্যালোচনায় বসেছিলেন কূটনীতিকরা। তবে এ নিয়ে বিশ্বনেতাদের ব্যর্থতার ইতিহাস নতুন নয়; এর আগে ২০১৫ এবং ২০২২ সালের পর্যালোচনা সম্মেলনগুলোও কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই নস্যাৎ হয়ে গিয়েছিল।

এবারের সম্মেলন থেকে সাফল্য পাওয়ার আশা আগে থেকেই কম ছিল। অংশীজনরা যে প্রস্তাবটি নিয়ে দরকষাকষি করছিলেন, তা বারবার কাটাছেঁড়ার কারণে এর মূল তেজ অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই দুর্বল খসড়াটিও সকলে মিলে গ্রহণ করতে ব্যর্থ হন। বিশ্লেষকদের মতে, টানা তিনবার পুনর্মূল্যায়ন সম্মেলন ব্যর্থ হওয়ায় চুক্তিটি কাগজে-কলমে টিকে থাকলেও বিশ্বমঞ্চে এর গ্রহণযোগ্যতা ও নৈতিক ভিত্তি বড় ধাক্কা খেল। আন্তর্জাতিক সঙ্কট গোষ্ঠীর বিশ্লেষক রিচার্ড গোয়ান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, বর্তমান বিশ্বের সংঘাত ও অস্ত্র প্রতিযোগিতার যে বাস্তব চিত্র, তার সাথে এই আলোচনার নথিপত্রগুলোর সম্পর্ক দিন দিন ফিকে হয়ে যাচ্ছে।

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, খসড়া নথিতে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার আহ্বান জানানো হলেও বিষয়টি বিতর্কিত ও বন্ধনীযুক্ত অবস্থায় ছিল, যা চূড়ান্ত ঐকমত্য না হওয়ার প্রমাণ দেয়। নথিতে কেবল বলা হয়েছিল তেহরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেয়া যাবে না। চূড়ান্ত খসড়া থেকে বেশ কিছু বড় ইস্যু বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ এবং কোরীয় উপদ্বীপের নিরস্ত্রীকরণের আহ্বানটি অন্যতম। পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও মস্কোর পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার সীমিত রাখার ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ গত ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার পর, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে নতুন বিকল্প চুক্তি নিয়ে আলোচনার যে তাগিদ ছিল, তাও খসড়া থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে।