রয়টার্স
চীন ১৯৩৭ সালের নানজিং গণহত্যার ৮৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শনিবার এক নীরব স্মরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। জিয়াংসু প্রদেশের নানজিং শহরে অবস্থিত নানজিং ম্যাসাকার মিউজিয়ামে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং উপস্থিত ছিলেন না, যা অনুষ্ঠানটিকে আরো নিম্নপ্রোফাইল করে তুলেছে।
চীন দাবি করে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি সেনারা নানজিং শহরে প্রবেশ করে প্রায় তিন লাখ মানুষকে হত্যা করেছিল। যদিও যুদ্ধ-পরবর্তী মিত্র আদালত নিহতের সংখ্যা এক লাখ ৪২ হাজার বলে উল্লেখ করে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চীন ও জাপানের মধ্যে ঐতিহাসিক বিতর্ক চলছে। অনেক জাপানি রক্ষণশীল রাজনীতিক ও গবেষক এখনো গণহত্যার মাত্রা অস্বীকার করেন।
এবারের স্মরণ অনুষ্ঠানে পাখি উড়িয়ে দেয়া হয় এবং নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। চীনা কর্মকর্তারা বলেন, ইতিহাসের এই বেদনাদায়ক অধ্যায় জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন নৃশংসতা আর না ঘটে। তবে অনুষ্ঠানটি ছিল অপেক্ষাকৃত সংযত, বড় কোনো রাজনৈতিক বার্তা দেয়া হয়নি।
চীন-জাপান সম্পর্ক বর্তমানে তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তেজনাপূর্ণ। সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করেছেন, যদি চীন তাইওয়ানে সামরিক হামলা চালায় তবে টোকিও প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। এ বক্তব্যে বেইজিং ক্ষুব্ধ হয়েছে এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরো সঙ্কটে পড়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নানজিং গণহত্যার স্মরণ অনুষ্ঠানকে নিম্নপ্রোফাইল রাখার মাধ্যমে চীন একদিকে ইতিহাসকে স্মরণ করাচ্ছে, অন্য দিকে বর্তমান উত্তেজনাকে আরো বাড়তে না দেয়ার চেষ্টা করছে। তবে এ ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে, অতীতের ক্ষত এখনো দুই দেশের সম্পর্ককে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।



