মো: আবদুস সালিম
আমাদের দেশের হাট-বাজারগুলোতে এখন টক মিষ্টি নানা ধরনের ফল পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোর অন্যতম লিচু।
শোনো, বাজারে যেসব জাতের লিচু দেখা যায় সেগুলো হলো বেদানা লিচু, বোম্বে লিচু, মোজাফফরপুরী লিচু, চায়না টু লিচু, চায়না থ্রি লিচু, হাড়িয়া লিচু, কাঁঠালিসহ আরো অনেক বাহারি নামের। অনেক সময় খোদ দোকানিরাও বলতে পারেন না কোনটা কোন নামের ও জাতের। কিন্তু বেদানা লিচু দেখামাত্র আমাদের চোখ যেন কপালে ওঠে। এ লিচু দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি সুস্বাদু। দামও বেশি।
জানা গেছে, ২০-২২ বছর আগে আমাদের দেশে সীমিত পরিমাণে বেদানা লিচু চাষ শুরু হয়। এর চাহিদা অন্যান্য লিচুর তুলনায় অনেক বেশি বলে এর চাষ বাড়তে থাকে। আমের বেলায় রাজশাহীর কথা যেমন আগে আসে তেমনি লিচুর বেলায় দিনাজপুরের নাম বলতে হয়। দিনাজপুরের মাটি ও আবহাওয়া বেদানা লিচু চাষে বিশেষ উপযোগী। তাই দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ বেদানা লিচু চাষ হয় দিনাজপুরে।
বেদানা লিচুকে কাঁটামরা লিচুও বলা হয়। বিভিন্ন জাতের লিচুর খোসার বাইরে প্রচুর ছোট ছোট কাঁটামতো থাকে। কিন্তু বেদানা লিচুর খোসার বাইরের অংশ প্রায় মসৃণ। ছোট বেদানার মতো দেখায় বলে এ লিচুকে বেদানা লিচু বলা হয়। এটি প্রায় গোলাকার। বিচি খুবই ছোট। অন্যান্য জাতের লিচুর শাঁসের পরিমাণ ১৮ থেকে ২০ শতাংশ হলেও বেদানায় শাঁসের পরিমাণ ২৮ থেকে ৩০ শতাংশ। খোসা খুবই পাতলা। রসের ঘনত্ব বেশি। যেমন মিষ্টি তেমন সুঘ্রাণ। রঙ গোলাপি।
এ লিচু বিদেশেও রফতানি হয়। লিচুর ভরা মৌসুম এলে এ লিচু বাজারে উঠতে শুরু করে। কিছু দিনের মধ্যে তা যেন আর দেখা যায় না। অন্যান্য জাতের লিচু ১০০টির দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা হলেও বেদানা লিচু বিক্রি হয় প্রায় এক হাজার টাকায়।



