রামিসা হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি এক মাসের মধ্যে

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

Printed Edition
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন  : পিআইডি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন : পিআইডি

ময়মনসিংহ অফিস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকারীর বিচার আগামী এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে এবং খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

গতকাল শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকীর জাতীয় অনুষ্ঠান উদ্বোধনে তিনি এই ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের শিশু নির্যাতন বা নারী নির্যাতন বর্তমান সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। সরকার রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ইনশাআল্লাহ আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করবে। সেই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। যাতে করে ভবিষ্যতে আর কোনো ব্যক্তি এভাবে শিশু বা নারী নির্যাতন করার সাহস না পায়। তিনি বলেন, অন্যায়কারীকে শাস্তি দিতে হলে আইন-কানুন আছে। কিন্তু কিছু মানুষ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে। তারা আইনের শাসনে বাধা দিচ্ছে। আইনকে বাধাগ্রস্ত করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবচেয়ে যেটি বড় ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে বিতাড়িত ফ্যাসিবাদের সময়ে মানবতা, মানবিকতা এবং দেশের আবহমানকালের ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে একেবারেই বিনষ্ট করে দেয়া হয়েছে। ঢাকার মিরপুরে একটি নিষ্পাপ মেয়ের নির্মম মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ মিলেছে।’

কবি নজরুল জন্মজয়ন্তীর তিন দিনব্যাপী উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা। তিনি আমাদের জাতীয় সত্তার সার্থক প্রতিনিধি, আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক। আমাদের জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ। জাতীয় কবির জন্মদিনে আমরা অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বিভেদের গ্লানি মুছে ফেলি। সবার আগে বাংলাদেশকে ধারণ করি।

১৯৭৬ সালে কবির নামাজে জানাজা এবং ১৯৭৯ সালে কবির জন্মজয়ন্তীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানেন না, ১৯৭৬ সালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় কবির নামাজে জানাজার পর কবির লাশবাহী খাটিয়া যারা কাঁধে বহন করেছিলেন তাদের অন্যতম ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ত্রিশালে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জাতীয় কবির প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা এবং সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে কাউকে সম্মান জানালে নিজের সম্মান নষ্ট হয় না বরং বিনয় মানুষকে মহিমান্বিত করে।

প্রায় দুই দশক পর ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে নজরুল জয়ন্তী আয়োজনের প্রসঙ্গ টেনে সরকার প্রধান বলেন, ‘২০০৬ সালের পর থেকে জাতীয় কবির অমর স্মৃতি বিজড়িত ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে নজরুল জয়ন্তী উদযাপন হয়নি। প্রায় দুই দশক পর পুনরায় রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় কবির জয়ন্তী আয়োজন করতে পেরে সরকার গৌরববোধ করছে।’

জাতীয় কবির বাল্য স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালের দরিরামপুরের নজরুল একাডেমি মাঠের নজরুল মঞ্চে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কবির জন্মবার্ষিকীর তিন দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠান হয়।

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা, জেলা পরিষদ প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লতিফুর রহমান শিবলী, ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কবি পৌত্রী খিলখিল কাজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিখ মনজুর, ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটন এবং জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

‘দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে’

এর আগে অন্য এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছে; কিন্তু একটি মহল এখন অস্থির হয়ে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল দুপুরে ত্রিশালের দরিয়ারপুর এলাকায় ধরার খাল (বৈলর খাল) পুনঃখননের উদ্বোধন শেষে সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, তারা কখনো কৃষক, কর্মসংস্থান বা সাধারণ মানুষের কথা বলে না। একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরি করছে। তিনি বলেন, রাস্তা অবরোধ করে, বিশৃঙ্খলা তৈরি করে তারা দেশের অগ্রগতি থামিয়ে দিতে চায়। এসব কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাবে, কৃষক কার্ড বিতরণ ব্যাহত হবে, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম থেমে যাবে, ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী বন্ধ হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষই।

তিনি বলেন, আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে। আপনারা পত্র-পত্রিকা পড়েন। আপনারা সোশ্যাল মিডিয়ার খবর নিয়ে দেখেন ওই যে ৫ আগস্ট যাদেরকে বাংলাদেশের মানুষ এই দেশ থেকে বিতাড়িত করে দিয়েছিল, এখন যারা অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে তারা তাদের সাথে তলে তলে আবার খাতির শুরু করেছে। যেইভাবে ছিয়ানব্বই সালে করেছিল, যেইভাবে ছিয়াশি সালে করেছিল তাদের সাথে এরা নতুন কয়েকটি লেজও গজিয়েছে। সুন্দর ছোট ছোট লেজ গজিয়েছে। কাজেই আমরা এই দেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি। বাংলাদেশের জনগণ রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এখন বাংলাদেশের মানুষ দেশ গঠন করতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ তার ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চায়। ভাগ্যের পরিবর্তন যদি করতে হয় আমাদের বিশ কোটি মানুষের চল্লিশ কোটি হাতকে সক্রিয় করে তুলতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, আজকে সময় এসেছে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য যে কাজগুলো সেগুলো একদিকে সফল করা, আরেকদিকে যারা ন্যায় বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যারা মানুষের জন্য গৃহীত কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্তের জন্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে মানুষকে সজাগ থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন, যারা আইনের শাসনকে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য বাধাগ্রস্ত করছেন, যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন তাদের বিরুদ্ধে আসুন আমরা সবাই সজাগ থাকব। তাদের বিরুদ্ধে আমরা সতর্ক থাকব এবং আমাদের আজকের খাল খনন কাজের মধ্যে দিয়ে আমাদের প্রতিশ্রুতি হচ্ছে একটি কর্মকাণ্ড কর্মদেশ।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হোসেইন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটন এবং ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সিপ্রশাসক রোকনুজ্জামন সরকার উপস্থিত ছিলেন।

স্পোর্টস কার ও ইভি গাড়ির প্রদর্শনী দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পোর্টস কার ও ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকল) গাড়িবিষয়ক একটি প্রদর্শনী ঘুরে দেখেছেন। গতকাল সকালে রাজধানীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আয়োজিত এ প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন তিনি।

প্রদর্শনীর সময় প্রধানমন্ত্রী আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন যানবাহন পরিদর্শন করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী এরপর বেলা ১১টা ৫ মিনিটে রাজধানীর তেজগাঁও নিজ কার্যালয় থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশে রওনা করেন।