কিশোরগঞ্জে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে স্ক্যাবিস ১ মাসে আক্রান্ত লক্ষাধিক শিশু

Printed Edition
কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে আউটডোরে রোগীদের ভিড় : নয়া দিগন্ত
কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে আউটডোরে রোগীদের ভিড় : নয়া দিগন্ত

শাহজাহান সিরাজ কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী)

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় আশংখা জনক হারে বাড়ছে স্ক্যাবিস রোগে আক্লান্ত শিশুর সংখ্যা। গত এক মাসে এক লাখ পাঁচ হাজার শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এসব শিশুর বয়স এক থেকে দশ বছরের মধ্যে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু ও চর্ম বিশেষঞ্জ চিকিৎসক না থাকায় সঠিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তপক্ষ। রোগের বিস্তার রোধে দ্রুত শিশু ও চর্ম বিশেষঞ্জ ডাক্তার পদায়নের দাবি জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালটির আউটডোরের জরুরি বিভাগে শত শত বাবা-মা আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালটির ৫০ শয্যায় ১১৮ রোগী ভর্তি রয়েছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগ শিশু স্ক্যাবিসে আক্লান্ত।

চিকিৎসা নিতে আসা মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ মিজানুর রহমান জানান, আমার মাদরাসায় ৩৯ জন ছাত্রের মধ্যে ১৮ জন ছাত্র গত তিন দিন ধরে সর্দি-জ্বর, কাশি, মাথাব্যাথা ও চুলকানি রোগে আক্লান্ত। হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। শেফালী রানী বলেন, গত দুই দিন ধরে আমার সন্তানের জ্বর, পেটে ব্যাথা ও চুলকানি। ডাক্তার আমার সন্তানকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিচ্ছে। মাগুরা ইউনিয়নের হামিদা বেগমসহ কয়েকজন জানান, প্রথমে সন্তানদের ত্বকের নানা জায়গায় পানিযুক্ত দানা বা বিচি দেখা দেয় এবং যখন চুলকানি হয় তখন দ্রুত শরীরের অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। সারা রাত সন্তান ঘুমাতে পারে না। রাতে বেশি চুলকায় দ্রুত একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার মাসুমা আক্তার বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বেশির ভাগ রোগী শিশু। এসব শিশু জ্বর, সর্দি,কাশি, ডায়রিয়া ও স্ক্যাবিস রোগে আক্লান্ত। আমরা শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পাশাপাশি রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি। এর মধ্যে যাদের অবস্থা বেশি খারাপ তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে নিচ্ছি। যেসব রোগী আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছে তাদের মধ্যে শতকরা ২৫ থেকে ৩০ ভাগ রোগী শিশু। আউটডোরের টিকিট কাউন্টার মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট জুয়েল মিয়া বলেন, আউটডোরে প্রতিদিন ৭০০ থেকে এক হাজার রোগী বহির্বিভাগের টিকিট নিয়ে জরুরি চিকিৎসেবা নিচ্ছেন। এর মধ্যে শিশু রোগী ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ। তাদের মধ্যে বেশির ভাগ শিশু জ্বর, সর্দি কাশি ও স্ক্যাবিশ রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

ইনডোরে দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সিং সুপারভাইজার ফেরদৌসী আরা খানম বলেন, জায়গা না থাকায় বেশির ভাগ রোগী মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে। এর মধ্যে যে সব রোগীর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে। গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে প্রতিনিয়ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: নীল রতন দেব বলেন, স্ক্যাবিস রোগটি দিন দিন ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। এই রোগে আক্রান্ত শিশুর মধ্যে মাদরাসা শিক্ষার্থীরা বেশি। এ ছাড়া পাঁচ থেকে দশ বছরের শিশুরাই বেশি। বর্তমানে এ উপজেলায় এক লাখের বেশি শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তিনি দ্রুত শিশু ও চর্ম বিশেষঞ্জ ডাক্তার পদায়নের দাবি জানান। তিনি জানান, স্ক্যাবিস রোগটি একপ্রকার অণুজীব দ্বারা সংঘটিত হয়। এর প্রধান লক্ষণ হলো শরীরে চুলকানি ও দানা বা বিচির মতো র‌্যাশ ওঠা। এটি স্পর্শেও মাধ্যমে ছড়ায়। তা ছাড়া রোগীর ব্যবহৃত কাপড় চোপড়, বিছানার চাদর ও বালিশ ব্যবহার করলে এ রোগ হতে পারে।