লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি টিকা দেয়ার দাবি মন্ত্রীর

হাম ও উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর মৃত্যু

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরো ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, এ পর্যন্ত দেশে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চার লাখ বেশি শিশুকে হামের টিকা দেয়া হয়েছে।

বাসস জানায়, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও হাম উপসর্গে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশে হাম ও হাম উপসর্গে ২ হাজার ১৩২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৬৭ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৬২ হাজার ৫০৭ জন।

১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৯ হাজার ৩৮৯ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৫ হাজার ১১ জন।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেয়া হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত চার লাখ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন।

শনিবার সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) পক্ষ থেকে দেওয়া জরুরি স্বাস্থ্যসামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ শেষে তিনি কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ১১ সেট ভেন্টিলেটর, ২৭ সেট নেবুলাইজার মেশিন, ২৭ সেট অক্সিজেন ফ্লো-মিটার ও এক লাখ স্যালাইন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করছে আইএফআরসি। এছাড়া ২ হাজার ৪০০ রোগীকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা দিচ্ছে সংস্থাটি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ শিশুকে টিকার আওতায় আনা। এরই মধ্যে ২০ মে পর্যন্ত আমরা এক কোটি ৮৪ লাখ ৩১ হাজার ১৪৯ শিশুকে টিকা দিয়েছি। এটি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই শতাংশ বেশি।

তিনি পরিসংখ্যানের বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন, এত বড় একটি কর্মযজ্ঞে শতভাগ নিখুঁত পরিসংখ্যান অনেক উন্নত দেশেও সম্ভব হয় না। তবে আমাদের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই সফলতা এনেছেন।

সিলেটে সম্প্রতি হামে আক্রান্ত হয়ে পাঁচটি শিশুর মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি সিলেটের সিভিল সার্জন ও পরিচালকের সাথে সরাসরি কথা বলেছি। অত্যন্ত কষ্টের বিষয় হলো, মৃত শিশুদের মধ্যে প্রায় কেউই ভ্যাকসিন বা টিকা নেয়নি। ছয় মাস, ৯ মাস এবং এক বছর বয়সী এই শিশুরা টিকার আওতার বাইরে ছিল।

হামের টিকা নিয়ে অবহেলার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত কমিটি করা হবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমি আগে বলেছি এই ব্যাপারে। বিচার করার চাইতে, আমাদের শিশুদের বাঁচানোর জন্য এখন সবাই চেষ্টা করছি।

ঈদ যাত্রায় শিশুদের নিয়ে সতর্কভাবে চলার পরামর্শ

হাম সংক্রমণ এড়াতে ঈদের সময়ে শিশুদের নিয়ে সতর্কভাবে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন।

শনিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের দেয়া যন্ত্রপাতি ও স্যালাইন গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ পরামর্শ দেন।

বাস ও ট্রেনযাত্রা এবং আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা আপনাদের অনুরোধ করছি, ঈদের সময় শিশুদের যেন সব জায়গায় নিয়ে না যাওয়া হয়। বিশেষ করে যেসব শিশুর আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তাদের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বা অতিরিক্ত ভিড় রয়েছে, এমন জায়গায় না নেয়াই ভালো।

তিনি বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের কাছ থেকে সুস্থ শিশুদের দূরে রাখতে হবে। একইভাবে আক্রান্ত রোগীদেরও অন্যদের সাথে মিশতে দেয়া উচিত নয়। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

ডাক্তার ও নার্সদের ঈদের ছুটি বাতিল

হামের রোগীদের চিকিৎসা সেবায় দায়িত্বরত ডাক্তার, নার্স ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন।

সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

যে সব হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুরা ভর্তি আছে, সে হাসপাতালগুলোতে ঈদের ছুটির মধ্যে চিকিৎসকরা থাকবেন কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাম রোগীদের চিকিৎসা সেবায় দায়িত্বরত কোনো ডাক্তার ও নার্সের ঈদের ছুটি হবে না। তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে থাকতে হবে।

সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটে হাম উপসর্গে মৃত্যুর মিছিল থামছেনা। ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে হাম উপসর্গ নিয়ে আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুই ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। এর মধ্যে চার জনের হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি ৪৭ শিশু হাম উপসর্গে মারা যান।

শনিবার এ সব তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় সিলেট বিভাগে নতুন কারো হাম নিশ্চিত না হলেও এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরো ৪৩ শিশু। এদিকে বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৯৫ জন শিশু।