শখ থেকে স্বাবলম্বী : পাখির খামারে বদলে যাওয়া জীবন

Printed Edition
শখ থেকে স্বাবলম্বী : পাখির  খামারে বদলে যাওয়া জীবন
শখ থেকে স্বাবলম্বী : পাখির খামারে বদলে যাওয়া জীবন

খাদেমুল ইসলাম মামুন, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল)

বেকারত্বের চাপে দিশেহারা তরুণদের ভিড়ে এক ভিন্ন গল্প লিখছেন ঘাটাইলের মনির হোসেন। শখের বশে পাখি পালন শুরু করে আজ তিনি হয়ে উঠেছেন স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা। তার গড়া ‘মনির’স পেট ফার্ম’ এখন শুধু একটি খামার নয়, এটি স্থানীয় তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী বাজারসংলগ্ন সখিপুর সড়কে গড়ে ওঠা এই খামারেই প্রতিদিনের ব্যস্ততা মনিরের। করোটিয়া সাদাত বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত এই তরুণ পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষভাবে সামলাচ্ছেন তার খামার। মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় করে নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারেও সহযোগিতা করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, খামারজুড়ে নানা রঙ ও প্রজাতির পাখির সমাহার। কোয়েল, টিয়া, লাভবার্ড, বাজরিকা, কুনুর, চন্দনা, গোল্ডেন ফিঞ্চ, অস্ট্রেলিয়ান ঘুঘুসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশী পাখির কোলাহলে মুখর পরিবেশ। কিছু পাখি ডিম দিচ্ছে, কিছু বাচ্চা লালন করছে, পুরো খামার যেন এক জীবন্ত ইকোসিস্টেম। পাশাপাশি রয়েছে বাহারি মাছের সংগ্রহও।

মনিরের ভাষায়, ‘শখের কাজই আমার পেশা হয়ে গেছে। পাখির যতœ নিতে নিতে সময় কেটে যায়। একঘেয়ে লাগে না কখনো।’ তার মতে, অল্প পুঁজিতে এই খামার গড়ে তুলে বেকারত্ব কাটানো সম্ভব, যদি থাকে আগ্রহ ও ধৈর্য। এই উদ্যোগ শুধু মনিরের ব্যক্তিগত সাফল্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তার খামার দেখে অনেক বেকার যুবক পাখি পালনে আগ্রহী হচ্ছেন, যা বিকল্প কর্মসংস্থানের পথ খুলে দিচ্ছে।

ঘাটাইল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: বাহাউদ্দীন সারোয়ার রিজভী বলেন, মনির হোসেন বেকারত্ব মোকাবেলার একটি কার্যকর উদাহরণ। তিনি জানান, এ ধরনের উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ ভ্যাকসিন ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে।

মনিরের স্বপ্ন আরো বড়, ভবিষ্যতে বৃহৎ আকারে খামার সম্প্রসারণ করে বাণিজ্যিকভাবে আরো সফল হওয়া। তার এই পথচলা দেখিয়ে দিচ্ছে, সঠিক পরিকল্পনা ও আন্তরিকতা থাকলে শখই হতে পারে জীবিকার শক্ত ভিত্তি।