বিএমইউতে সেমিনারে বক্তারা

পথশিশুরা শারীরিক মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার

Printed Edition
বিএমইউতে সেমিনারে বক্তারা
বিএমইউতে সেমিনারে বক্তারা

পথশিশুদের সবাই শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার ও প্রায় সবাই অর্থনৈতিক শোষণের মুখোমুখি হয়েছে। ২৭ শতাংশ শিশু জানে না তাদের বাবা-মায়ের অবস্থান। ৯৭ শতাংশ শিশু এসেছে অত্যন্ত নিম্ন আর্থ-সামাজিক অবস্থা থেকে।

গতকাল বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) এক সেমিনারে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ‘শৈশবকালের প্রতিকূলতা ও তার স্বাস্থ্যগত প্রভাব’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশসহ সেমিনারের বিষয় ছিল শৈশবকালীন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুরা (Vulnerability in Childhood and Vulnerable Children)।

বিএমইউর বেসিক সাইন্স ভবনের নবম তলায় পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগ আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ভিসি অধ্যাপক ডা: মো: শাহিনুল আলম। দি ওপেন ইউনিভার্সিটি (ইউকে), ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি স্কুল অব সোস্যাল ওয়ার্ক (ইউএসএ) এবং গ্লোবাল স্ট্রিট কানেক্টের সহায়তায় আয়োজিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন প্রোভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা: মো: মুজিবুর রহমান হাওলাদার।

সেমিনারে কীনোট স্পিচ প্রদান করেন পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: মো: আতিকুল হক।

ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. হাসান রেজা গ্লোবাল স্ট্রিট কানেক্ট পরিচালিত একটি ন্যাশন ওয়াইড মিক্সড-মেথডস স্ট্যাডিসের ফলাফল উপস্থাপন করেন, যেখানে বাংলাদেশের স্ট্রিট কানেক্টেড বা পথ শিশুদের ওপর নির্যাতনের বাস্তবতা তুলে ধরা হয়। গবেষণার ফলাফলে জানানো হয়, এ ধরনের শিশুদের মধ্যে ১০০ শতাংশ শিশুই শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। প্রায় সবাই অর্থনৈতিক শোষণের মুখোমুখি হয়েছে। ২৭ শতাংশ শিশু জানে না তাদের বাবা-মায়ের অবস্থান। ৯৭ শতাংশ শিশু এসেছে অত্যন্ত নিম্ন আর্থ-সামাজিক অবস্থা থেকে। এই শিশুদের প্রতিদিনের জীবনে যে পরিমাণ ট্রমা ঘটে, তা শুধু তাদের শৈশব নয়, ভবিষ্যৎ জীবনেও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। সময়মতো সহায়তা না পেলে মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি ভয়াবহ হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের দি ওপেন ইউনিভার্সিটির মেন্টাল হেলথ ক্লিনিশিয়ান ও ফ্যাকাল্টি মেম্বার ডা: শরীফ হায়দার বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য কোনো গৌণ বিষয় নয় এটাই শিশু সুরক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। গবেষণা বলছে, একটি শিশুর জীবনে যত বেশি এডভারস চাইল্ডহুড এক্সপ্রিয়েন্সেস ঘটে, তার মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও তত বেশি। সহিংসতা প্রতিটি শিশুর মনে অদৃশ্য দাগ রেখে যায়, যা সারাজীবন বহন করে বেড়াতে হয়।

সেমিনারে বিএমইউ ভিসি অধ্যাপক ডা: মো: শাহিনুল আলম বলেন, শৈশবকালের প্রতিকূলতা ও তার স্বাস্থ্যগত প্রভাবসহ এ ধরনের গবেষণা ও নানামুখী কার্যক্রম তাদের সুস্বাস্থ্যসহ নিশ্চিত করা, সুরক্ষাসহ সুন্দর ভবিষ্যৎ জীবন নিশ্চয়তায় বিরাট ভূমিকা রাখবে। শিশুরা যাতে পরিবার থেকে শুরু করে সর্বত্র সহিংসতা, অবহেলা ও অত্যাচারের শিকার না হয় সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। শৈশব থেকেই শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ থাকলে ভবিষ্যতে তাদের স্বাস্থ্যের ওপর নানা ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা গবেষণায় প্রমাণিত।

সেমিনারের বাংলাদেশের পথ শিশুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমুখী কর্মপন্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়া হয়। সেমিনারটি গ্লোবাল স্ট্রিট কানেক্ট পরিচালিত জাতীয় পর্যায়ের প্রচারণা ব্রেক দ্য সাইকেল-স্টপ ভায়োলেন্স এগেইনস্ট স্ট্রিট চিলড্রেনের (Break the Cycle– Stop Violence Against Street Children) অংশ, যার উদ্দেশ্য হলো শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং নীতিনির্ধারণে গঠনমূলক পরিবর্তন আনা। বিজ্ঞপ্তি।