হেলাল উদ্দিন লিটন তজুমদ্দিন (ভোলা)
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় পতিত জমিতে তরমুজ চাষ করে বাম্পার ফলনের মুখ দেখেছেন কৃষকরা। মেঘনায় জেগে ওঠা নাগর পাটওয়ারীর চরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমি এখন সবুজ তরমুজ ক্ষেতে ভরে উঠেছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি।
উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চর জহির উদ্দিন, তেলিয়ার চর ও নাগর পাটওয়ারীর চরসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে তরমুজ চাষ হয়েছে। আকারে বড় ও মানসম্মত তরমুজ উৎপাদন হওয়ায় কৃষকরা এখন ফসল তোলা ও বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলার স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের আড়ৎগুলোতেও এসব তরমুজ সরবরাহ করা হচ্ছে। ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরাও সন্তুষ্ট।
উপজেলা কৃষি দফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৬০ হেক্টর জমিতে। তবে কৃষকদের আগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ২৬৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ১০টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলে এ বছর তরমুজ চাষ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরেজমিন সোনাপুর ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা হলে তারা জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শুরু থেকেই তরমুজ ক্ষেতে পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম ছিল। ফলে সার ও কীটনাশকের খরচও কম হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা কৃষি অফিসের নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকির কারণে ফলনও ভালো হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক তছলিম মাঝি, মো: হান্নান ও সালাউদ্দিন বলেন, ‘এবার তরমুজের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু জমির তরমুজ বিক্রি শুরু হয়েছে এবং ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। আশা করছি রমজান মাসে আরো ভালো দামে বিক্রি করতে পারব।’
তজুমদ্দিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: ইব্রাহিম জানান, কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সরকারি সহায়তার মাধ্যমে পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দাম ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর কৃষকরা তরমুজ চাষে লাভবান হচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী এক মাসের মধ্যে কৃষকরা পুরো ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।



