ইতিহাসের নীরব সাক্ষী দিনাজপুরের নয়াবাদ মসজিদ

Printed Edition
ইতিহাসের নীরব সাক্ষী দিনাজপুরের নয়াবাদ মসজিদ
ইতিহাসের নীরব সাক্ষী দিনাজপুরের নয়াবাদ মসজিদ

মিনাজুল ইসলাম মিজান সোনাতলা (বগুড়া)

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের নয়াবাদ মিস্ত্রিপাড়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক নয়াবাদ মসজিদ প্রাচীন স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন। জেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার এবং উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ঢেপা নদীর পশ্চিম তীরে ১ দশমিক ১৫ বিঘা জমির ওপর মসজিদটি নির্মিত। বর্তমানে প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে মসজিদের সংস্কারকাজ চলছে।

মসজিদের কেন্দ্রীয় প্রবেশপথে স্থাপিত শিলালিপি অনুযায়ী, ১২০০ বঙ্গাব্দের ২ জ্যৈষ্ঠ (১২৯৩ খ্রিষ্টাব্দে) দ্বিতীয় মোঘল সম্রাট শাহ আলমের শাসনামলে মসজিদটি নির্মিত হয়। ইতিহাস ও স্থাপত্যশৈলীর বিচারে এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ইসলামি স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত।

আয়তাকার এই মসজিদে তিন গম্বুজ রয়েছে। চার কোণে রয়েছে চারটি অষ্টভুজাকৃতি টাওয়ার। বাইরের দিক থেকে মসজিদের দৈর্ঘ্য ১২ দশমিক ৪৫ মিটার এবং প্রস্থ ৫ দশমিক ৫ মিটার। দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় ১ দশমিক ১০ মিটার। পূর্ব দিকে প্রবেশের জন্য তিনটি খিলান রয়েছে- মাঝের খিলানটি অপেক্ষাকৃত বড়, যার উচ্চতা ১ দশমিক ৯৫ মিটার এবং প্রস্থ ১ দশমিক ১৫ মিটার। পাশের দুটি খিলান সমমাপের হলেও কিছুটা ছোট।

মসজিদের ভেতরে পশ্চিম দেয়ালে রয়েছে তিনটি মেহরাব। মাঝের মেহরাবের উচ্চতা ২ দশমিক ৩০ মিটার ও প্রস্থ ১ দশমিক ৮ মিটার। পাশের দু’টি তুলনামূলক ছোট। উত্তর ও দক্ষিণ দিকে একটি করে জানালা রয়েছে। দরজা ও জানালার খিলানে একাধিক খাঁজযুক্ত নকশা বেশ লক্ষণীয়।

মসজিদের গায়ে রয়েছে অসংখ্য আয়তাকার পোড়ামাটির ফলক। প্রতিটি ফলকের আয়তন প্রায় দশমিক ৪০ বাই দশমিক ৩০ মিটার। এসব ফলকে লতাপাতা ও ফুলের নকশা থাকলেও কিছু কিছু জায়গায় সময়ের ব্যবধানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং খসে পড়েছে। মোট ১০৪টি পোড়ামাটির ফলক থাকলেও এর অনেক অলঙ্করণ প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত।

প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর ইতোমধ্যে মসজিদের চার পাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ বেশ কিছু অংশ সংস্কার করেছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে এলাকাটি উন্মুক্ত করে রাখা এবং বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি সোলার ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিকভাবে পুলিশের নজরদারি রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, এ অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন স্থাপনা এই নয়াবাদ মসজিদ। এটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে বেশ পরিচিত। প্রতি বছর দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটক এখানে এসে মসজিদের ইতিহাস ও স্থাপত্য সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করেন। পর্যটক ও সমাজকর্মী ডা: ওমর ফারুক খান বাইতুল বলেন, দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য জানতে হলে ঐতিহাসিক স্থানগুলো ঘুরে দেখা প্রয়োজন। এসব স্থাপনা যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও সংস্কার করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।