নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাবেক সেনাকর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেছেন, ‘আমি আমার পেনশন সুবিধা এখনো পাইনি।’ মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরার জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুমের ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
জেরার এক পর্যায়ে আইনজীবী আমিনুল গণী প্রশ্ন করেন, ‘আপনি তো অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেনাবাহিনী থেকে নজিরবিহীন পেনশন সুবিধা পেয়েছেন।’ জবাবে আমান আযমী বলেন, ‘এ কথা সত্য নয়। আমি আমার পেনশন সুবিধা এখনো পাইনি। আমার একটি ভাড়া বাসা ছিল। সাত তলা ওই বাড়িতে কাউকে বসবাস করতে দেয়া হয়নি, সেটি তালাবদ্ধ ছিল। আমার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বাড়ির ভাড়া প্রদান করেছিল সরকার। এ ছাড়া অন্য কোনো সুবিধা আমি পাইনি।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০০৯ সালের ২৪ জুন তাকে বরখাস্তের যে আদেশ দেয়া হয়েছিল, তা বাতিল করে ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর তাকে অবসর প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে দু’টি পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
আইনজীবী আমিনুল গণী প্রশ্ন করেন, ‘জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনের সময় আপনি অনেক লোককে বেআইনিভাবে আটক ও বন্দী করে রেখেছিলেন।’ জবাবে আমান আযমী বলেন, ‘এরশাদের সামরিক আইনের সময় অনেক লোককে বেআইনিভাবে আটক করে রাখার দাবিটি সত্য নয়।’
অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেন, ‘অপারেশন রেবেল হান্ট’-এর সময় তিনি সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের সামরিক শাসনামলে শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুনকে কী কারণে বন্দী করে তার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল, সে সম্পর্কে তিনি কিছু জানতেন না বলেও উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে আটক করিনি। কী কারণে ওই তিনজনকে বন্দী করে আমার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল, তা আমার জানা ছিল না। আমি আটকের কারণ জানার চেষ্টাও করিনি; কারণ তখন আমি সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত একজন জুনিয়র অফিসার ছিলাম। সামরিক শাসন বলবৎ থাকায় এ ধরনের প্রশ্ন করার কোনো সুযোগ আমার ছিল না।’
জেআইসিতে গুমের এই মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে বর্তমানে তিনজন সাব-জেলে রয়েছেন। তারা হলেন, ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো: সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী।
মামলার বাকি ১০ আসামি এখনো পলাতক। তাদের মধ্যে রয়েছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মো: আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব:) মো: সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মো: সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব:) হামিদুল হক। ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব:) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব:) মখছুরুল হক। এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিকও এ মামলার পলাতক আসামি।
এই মামলার পরবর্তী সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণের জন্য আগামী ১১ মে দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
ইনুর পক্ষে পঞ্চম দিনের যুক্তিতর্ক শেষ : চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর পক্ষে পঞ্চম দিনের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। ইনুর পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। তার সাথে ছিলেন- আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ ও আবুল হাসান। তারা এ মামলায় প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করেন। একইসাথে হাসানুল হক ইনুকে এ মামলা থেকে বাঁচাতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।



