খুলনা ব্যুরো
খুলনার দাকোপে মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন পাঁচজন। শুক্রবার রাতে এ ঘটনায় মামলার পর গতকাল আটক অভিযানে আসা র্যাবের গাড়ি ভাঙচুর করে আটককৃতদের ছিনিয়ে নিয়েছে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে র্যাব দিয়ে জনসাধারণকে হয়রানির অভিযোগ করেছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
জানা যায়, উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের খোনা এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডেও (পাউবো) ওয়াপদা বেড়িবাঁধের বাইরে প্রায় ৪০ বিঘা জমি বেশকয়েক বছর যাবৎ আবদুল্লাহ ফকির, বাবলু সানা ও সাজ্জাদ সরদার দখলে রেখে মাছ চাষ করছেন। সে এলাকার মুকুন্দ মণ্ডল, বাচ্চু ফকির ও রসুল গাজীর নেতৃত্বে একটি গ্রুপ ঘের দখলের চেষ্টা করলে দুইপক্ষে বিরোধ সৃষ্টি হয়। থানায় দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মুকুন্দ মণ্ডল, বাচ্চু ফকির ও রসুল গাজীর নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘেরটি দখলের চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় আকরাম ফকির বাদি হয়ে ১১ জনের নামে দাকোপ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। বাদির ছেলে আবদুল্লাহ ফকির দাবি করেন শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ঘেরে মাছ ধরার সময় প্রতিপক্ষের ২০/২৫ জন ফের ফিল্মি স্টাইলে হামলা চালায়। হামলায় তাদের পাঁচজন গুরুতর আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। তারা হলেন- পানখালী এলাকার জসিম মোল্যা (৩২), হাফিজুর মোল্যা (৪০), আবু মুসা শেখ (৩১), জাফর সরদার (৩১) ও সাজ্জাত সরদার (৫৪)।
এ দিকে এ ঘটনাকে মিথ্যা দাবি করে মামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে গতকাল বেলা ১১টার দিকে মুকুন্দ-বাচ্চু পক্ষের লোকজন উপজেলা সদর চালনায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনের চেষ্টা করে। এ সময় খুলনা র্যাব-৬-এর সদস্যরা সেখান থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মুকুন্দ মণ্ডল ও রসুল গাজীকে আটক করেন। নিয়ে যাওয়ার সময়ে চালনা আঁচাভূয়া বাজার এলাকায় র্যাবের গাড়ি অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে আটকদের পক্ষের লোকজন। একপর্যায়ে তারা র্যাবের গাড়িতে হামলা এবং ভাঙচুর করে আসামিদের ছিনিয়ে নেয়।
এ বিষয়ে দাকোপ থানার ওসি খায়রুল বাসার বলেন, আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় র্যাব, পুলিশ ও প্রশাসনের অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে।



