২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৬ শাবান ১৪৪৬
`

ইউক্রেন ইস্যুতে নিরপেক্ষ অবস্থান নিরাপত্তা পরিষদের

জাতিসঙ্ঘের প্রস্তাবে রাশিয়ার পাশে যুক্তরাষ্ট্র
-


ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযানের তৃতীয় বর্ষপূর্তিতে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের করা খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী এই সঙ্ঘাতের বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার উদ্যোগ গ্রহণ করার পর সোমবার নিরাপত্তা পরিষদ এ অবস্থান নিলো। ওই সংক্ষিপ্ত খসড়া প্রস্তাবটিতে ইউক্রেইন বিষয়ে ট্রাম্পের গ্রহণ করা মার্কিন নীতি প্রতিফলিত হয়েছে।
ট্রাম্প ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে রাশিয়ার সাথে আরো সমঝোতামূলক অবস্থান নেন। এর বিপরীতে তার আগের মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন যুদ্ধের পুরো সময় ধরে ইউক্রেনকে সমর্থন করার জন্য জাতিসঙ্ঘকে পরিচালিত করার চেষ্টায় নেতৃত্ব দিয়েছিল।
রাশিয়ার জাতিসঙ্ঘ দূত ভাসিলি নিবিয়েনসা স্বীকার করেন, এই যুদ্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে ‘গঠনমূলক পরিবর্তন’ ঘটেছে। তিনি পরিষদকে বলেন, এই প্রস্তাব আদর্শ না হলেও শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির ভবিষ্যৎ উদ্যোগের জন্য একটি সূচনা বিন্দু।

ইউক্রেন যুদ্ধের পুরোটা সময় ধরেই ১৫ সদস্যের জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ রাশিয়ার ভিটো ক্ষমতার কারণে কোনো পদক্ষেপ নিতে না পেরে অচল হয়েছিল। কিন্তু ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদ বারবার ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন দিয়ে জাতিসঙ্ঘের ঘোষণা অনুযায়ী একটি ন্যায্য, দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যাপক শান্তির জন্য আহ্বান জানিয়ে এসেছে। তিন অনুচ্ছেদের যে প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদ গ্রহণ করেছে একই দিন এর আগে তা গ্রহণ করার জন্য সাধারণ পরিষদকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু ব্যর্থ হয়। প্রস্তাবে ‘রাশিয়া-ইউক্রেন লড়াইয়ে’ প্রাণহানির জন্য শোক প্রকাশ করা হয়। এতে জাতিসঙ্ঘের লক্ষ্য যে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি, তা পুনরোল্লেখ করা হয়। শেষে ইউক্রেন যুদ্ধের দ্রুত অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির আহ্বান জানানো হয়।

নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবকে বাধ্যতামূলক বলে বিবেচনা করা হয়, কিন্তু সাধারণ পরিষদেরটা তা না। তবে সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবের রাজনৈতিক তাৎপর্য আছে, এতে কোনো একটা বিষয়ে পুরো বিশ্বের মনোভাব প্রতিফলিত হয়। নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটির পক্ষে ১০টি ভোট পড়ে। ফ্রান্স, ব্রিটেন, ডেনমার্ক, গ্রিস ও স্লোভেনিয়া ভোট দানে বিরত থাকে।
রাশিয়া কিছু সংশোধন আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর প্রস্তাবটির পক্ষেই ভোট দেয়। প্রস্তাবে ইউক্রেনকে সমর্থন করে কিছু কথা যুক্ত করার প্রস্তাব করে ইউরোপীয় সদস্য রাষ্ট্রগুলো, কিন্তু রাশিয়ার ভিটোতে তা বাতিল হয়ে যায়। প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পর জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ডরোথি শে বলেন, এই প্রস্তাব আমাদের শান্তির পথে স্থাপন করেছে। এটি একটি প্রথম পদক্ষেপ, কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ- যেটিকে নিয়ে আমাদের সবার গর্বিত হওয়া উচিত। ইউক্রেন, রাশিয়া ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য এখন আমাদের অবশ্যই এটি ব্যবহার করতে হবে।

নিরাপত্তা পরিষদের আগে সাধারণ পরিষদ দু’টি প্রস্তাব গ্রহণ করে। এর একটির খসড়া ইউক্রেন ও ইউরোপীয় দেশগুলোর করা আর অপরটি যুক্তরাষ্ট্রের। পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটিতে সংশোধন এনে ইউক্রেনকে সমর্থ করে দীর্ঘ বক্তব্য জুড়ে দেয়। এই পদক্ষেপে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে একটি কূটনৈতিক জয় পায়। ভোটাভুটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটির পক্ষে ৯৩ ভোট পড়ে, ৭৩ সদস্য রাষ্ট্র ভোট দানে বিরত থাকে আর আটটি প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়। রাশিয়া মার্কিন প্রস্তাবের বিবরণীতে সংশোধন এনে যুদ্ধের ‘মূল কারণ’ উল্লেখ করতে চেয়েছিল কিন্তু ব্যর্থ হয়। ইউক্রেন ও ইউরোপী দেশগুলোর প্রস্তাবটির পক্ষে ৯৩ ভোট পড়ে, ৬৫ সদস্য রাষ্ট্র ভোট দানে বিরত থাকে এবং না ভোট দেয় ১৮টি রাষ্ট্র। যে রাষ্ট্রগুলো না ভোট দিয়েছে তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া ও ইসরাইল উল্লেখযোগ্য।

জাতিসঙ্ঘের প্রস্তাবে রাশিয়ার পাশে যুক্তরাষ্ট্র
জাতিসঙ্ঘে দু’টি ভিন্ন ভোটে রাশিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান মার্কিন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এদিন ইউরোপ সমর্থিত একটি প্রস্তাব জাতিসঙ্ঘে গৃহীত হয়েছে। ইউক্রেনের ভূখণ্ড থেকে রাশিয়া যেন সেনা প্রত্যাহার করে নেয়, প্রস্তাবে সেই দাবিও করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, প্রথমে দু’টি দেশ মস্কোর কর্মকাণ্ডের নিন্দা এবং ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সমর্থন করে একটি ইউরোপীয় খসড়া প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। তারপরও ওই প্রস্তাটি জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে পাস হয়। জাতিসঙ্ঘে সোমবার ইউরোপ সমর্থিত একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। সেই প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে, ইউক্রেনের ভূখণ্ড থেকে যেন সেনা প্রত্যাহার করে নেয় রাশিয়া। এই প্রস্তাব জাতিসঙ্ঘে গৃহীত হওয়াটা মস্কোর জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতিসঙ্ঘের মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরো একটি প্রস্তাব সামনে আনা হয়। সেখানে যুদ্ধের সমাপ্তির কথা বলা হয়েছে। তবে স্পষ্ট করে রাশিয়ার আগ্রাসনের কথা উল্লেখ ছিল না। সেই প্রস্তাব জাতিসঙ্ঘের সাধারণ সভায় প্রত্যাখ্যাত হয়। এটা নিঃসন্দেহে ট্রাম্প সরকারের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের নিন্দা প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ক্ষেত্রে ভোটাভুটিতে রাশিয়ার সাথেই এক সুর ছিল আমেরিকার। এই প্রস্তাবে রাশিয়ার সাথে শুধু আমেরিকাই ছিল না, রাশিয়া পাশে পেয়েছে বেলারুশ, উত্তর কোরিয়া এবং সুদানকেও।

 


আরো সংবাদ



premium cement
ইবরাহীম ঝড়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ইংল্যান্ড সিরিয়ায় সামরিক অবস্থানের ঘোষণা নেতানিয়াহুর, দামেস্কসহ কয়েকটি শহরে প্রতিবাদ ডিসেম্বরেই নির্বাচন করা সম্ভব : ইসি আনোয়ারুল ৩ নির্বাচনে বাংলার মানুষ ভোট দিতে পারেনি : মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সামনে অবস্থান নিয়েছেন জুলাই আন্দোলনে আহতরা উপদেষ্টা মাহফুজ পেলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যাকাত সমাজে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর করে শুক্রবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার আহ্বান সৌদি আরবের ন্যায়বিচার কায়েম হলেই দেশে জুলুম বন্ধ হবে : অধ্যাপক মুজিবুর রহমান রাশিয়ার সাথে শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি সম্প্রসারণে আগ্রহী বাংলাদেশ : ড. ইউনূস ধর্ম অবমাননার অভিযোগে রাবি শিক্ষার্থীকে হল থেকে বহিষ্কার

সকল