২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৭ শাবান ১৪৪৬
`
জামায়াতের আলোচনায় ডা: তাহের

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারত সরাসরি জড়িত

জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন ডা: সৈয়দ আবদুল্লাহ মো: তাহের : নয়া দিগন্ত -


পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সাথে ভারত সরাসরি জড়িত মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাবেক এমপি ডা: সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠা করতে। ভারত আওয়ামী লীগকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় রাখার স্বপ্ন দেখিয়ে আওয়ামী সরকারের মদদে পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ড পরিচালিত করেছে ভারতীয় আজ্ঞাবহ বিডিআর জওয়ানরা। কিন্তু তাদের কোনো বিচার না করে নিরপরাধ বিডিআর সদস্যদের আটক করে বিচারের নামে অবিচার করে দণ্ড দিয়েছে, চাকরিচ্যুত করেছে।

২০০৯ সালে পিলখানায় দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলরুমে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কমিশনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ভিত্তিতে ঘটনার সাথে জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বিএনপিসহ সব দলকে পাঁচ বিষয়ে ঐকমত্য হয়ে জাতির সামনে শপথ করার আহ্বান জানিয়ে ডা: তাহের বলেন, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রায় নো কম্প্রোমাইজ (কোনো আপস নয়), দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, জাতীয় স্বার্থে এক ও অভিন্ন, দেশের উন্নয়নে দলের চেয়ে দেশ বড় নীতি অবলম্বন এই পাঁচ বিষয়ে ঐকমত্য হয়ে জাতির সামনে শপথ গ্রহণ করতে না পারলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেয়ারও আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বলেন, ভিন্নমত ও দল থাকবে, থাকতে পারে। কিন্তু দেশ ও জাতির স্বার্থে এই পাঁচ বিষয়ে ঐকমত্য হতে পারলে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ হবে একটি শক্তিশালী জাতি ও রাষ্ট্র।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে আড়াল করতে নানা রকম ষড়যন্ত্রের আয়োজন করা হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল একটি কালো অধ্যায়।

সভাপতির বক্তব্যে মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, শেখ হাসিনা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার কিছু দিনের মাথায় পরিকল্পিতভাবে পিলখানায় দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। শেখ হাসিনা এক ঢিলে পাঁচ পাখি মেরেছে। প্রথমত, ৫৭ জন চৌকস সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করেছে; দ্বিতীয়ত, চৌকস দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করার মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করতে চেয়েছে; তৃতীয়ত, শেখ হাসিনা তার পিতা হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে সেনাবাহিনীকে পঙ্গু করেছে; চতুর্থত, বিডিআরকে নিঃস্ব করেছে এবং পঞ্চমত, বিডিআরকে নিঃশেষ করে নতুন বাহিনী গঠন করে তাদের নতজানু বাহিনী সৃষ্টি করেছে। এতে ভারতের আধিপত্যবাদ বিস্তারের পথ সুগম করেছে। তিনি বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর ইতোপূর্বে যেই তদন্ত করা হয়েছে, সেই তদন্ত একতরফা এবং নিজেদের মনগড়া তদন্ত। নতুন করে তদন্তে গঠিত কমিশনের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার বিচার করতে হবে।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আবদুস সবুর ফকির, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আবদুল মান্নান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আরেক সহকারী সেক্রেটারি শামসুর রহমান, ঢাকা বারের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, পল্টন থানা আমির শাহিন আহমেদ খান প্রমুখ।

ঢাকা মহানগরী উত্তর : ‘২০০৯ সালের কথিত বিডিআর বিদ্রোহের নামে দেশপ্রেমী সেনা হত্যা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না; বরং তা ছিল দেশ ও জাতিসত্তাবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ এবং পূর্বপরিকল্পিত’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের স্থানীয় একটি মিলনায়তনে শেরেবাংলা নগর উত্তর থানা জামায়াত আয়োজিত জাতীয় শহীদ সেনা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। থানা আমির আবদুল আউয়াল আজমের সভাপতিত্বে এবং থানা কর্মপরিষদ সদস্য হাফেজ মোহাম্মদ শাহজাহানের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন থানা বায়তুলমাল সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল হালিম, কর্মপরিষদ সদস্য সাইফুল আলম ও মো: নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যের প্রতিবাদ : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রুহুল কবির রিজভী ‘জামায়াত যখনই সুযোগ পেয়েছে বিএনপিকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করার চেষ্টা করেছে’ মর্মে যে ভিত্তিহীন মিথ্যা বক্তব্য প্রদান করেছেন আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তার এ বক্তব্যের মধ্যে সত্যের লেশমাত্রও নেই। তার এ বক্তব্য অন্যায়, অনভিপ্রেত ও অনাকাক্সিক্ষত। তার ওই বক্তব্য বিএনপির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য; জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে নয়।

তিনি আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামী ১৯৯১ সালে নিঃশর্তভাবে সমর্থন দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে ছিল। বিনিময়ে তারা ক্ষমতায় গিয়ে অধ্যাপক গোলাম আযমকে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে না দিয়ে উল্টো তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে ১৬ মাস জেলে বন্দী করে রেখেছিল। আবার ১৯৮১ সালে জামায়াতে ইসলামী বিএনপির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচিত করে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। কিন্তু তিনিও অধ্যাপক গোলাম আযমকে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেননি। এসব দৃষ্টান্ত দেশবাসীর জানা আছে। তাই ভিত্তিহীন মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে বিএনপির নেতা রুহুল কবির রিজভী দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করতে পারবেন না। এ জন্য নিজের মান-সম্মানের কথা চিন্তা করেই জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মিথ্যা বক্তব্য প্রদান করা থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি রুহুল কবির রিজভীর প্রতি আহ্বান জানান।


আরো সংবাদ



premium cement