সাড়ে ৩ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী জানুয়ারি মাসের বেতন পাননি
- শাহেদ মতিউর রহমান
- ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০০:০০
- নামের বানানে ডট কমা নিয়ে বিভ্রান্তি
- সমস্যা সমাধানে কাজ করছে মাউশি
নামের বানানে সামান্য ত্রুটি থাকায় নতুন বছরের (২০২৫) প্রথম মাসে কোনো বেতন পাননি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাড়ে তিন লাখ শিক্ষক-কর্মচারী। নামের আগে পেছনে কিংবা মাঝে সামান্য ডট কমা বা হাইফেন সংক্রান্ত সামান্য ত্রুটিতেই আটকে গেছে তাদের বেতন। এ দিকে রমজান মাস আসন্ন। এতে বেতন না পেয়ে অনেক শিক্ষক নিরুপায় হয়েই ঢাকায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরে এসে ভিড় করছেন।
গতকাল মঙ্গলবার এমন অভিযোগ নিয়ে মাউশিতে এসে খোঁজ খবর নিয়েছেন সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা জৈন্তাপুর তৈয়ব আলী ডিগ্রি কলেজের এক শিক্ষক। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মাউশি আসছেন বেতন আটকে যাওয়া এমন অনেক শিক্ষক। তবে মাউশির এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেল জানিয়েছে শিক্ষকদের নামের সামান্য ভুল ত্রুটি থাকলেও তাদের বেতন ছাড় করা হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নামের বিভ্রাটের কারণে কোনো শিক্ষকের বেতন আটকে থাকবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার বা ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা দেয়ার ক্ষেত্রে এখন থেকে সামান্য ভুল তথ্য সংশোধনে ছাড় দেয়া হবে। নামের ক্ষেত্রে ডট, কমা কিংবা হাইফেন ‘আপাতত’ সংশোধন না করলেও বেতন প্রাপ্তিতে তাদের কোনো অসুবিধা হবে না।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে জানান, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা আটকে থাকার কারণ হলো তাদের নামের বানানে ভুল বা অসঙ্গতি। গত কয়েক মাসে যেসব অভিযোগ আসছে সেখানে দেখা গেছে অসংখ্য শিক্ষক-কর্মচারীর নামের বানানের ক্ষেত্রে ডট (.), কমা (,), হাইফেন (-) সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। এগুলো সংশোধন করতে গেলে অনেক সময় লেগে যাবে। সে জন্য আপাতত এই ভুলগুলো সংশোধন না করলেও চলবে। ওই কর্মকর্তা আরো জানান, ‘মূলত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্ম তারিখ এবং নামের বানানের বড় কোনো ভুল অবশ্যই সংশোধন করতে হবে। নামের বানানের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ মিল থাকলে আমরা বিষয়টি সঠিক বলে ধরে নেব। তবে জন্ম তারিখসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই সংশোধন করতে হবে।
গত দুই মাস বেতন না পেয়ে মাউশি এসে ভিড় করা শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর জানুয়ারি মাসের বেতন এখনো পাননি। এমনকি ফেব্রুয়ারি মাসও চলে যাচ্ছে। সমস্যার সমাধান না করা হলে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন নিয়েও জটিলতা তৈরি হবে। আর দু-তিন দিন পরেই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান। এখন যদি শিক্ষকরা বেতন না পান তাতে তাদের সংসার খরচ চালানোই কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে।
একটি সূত্র জানায়, নামের বিভ্রান্তির বিষয়ে সুরাহা হলেও জানুয়ারি মাসের বেতনও রোজার আগে পাওয়া যাবে কি না তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। কেননা বিপুল সংখক বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জানুয়ারি মাসের বেতন ছাড়ের প্রস্তাব গত সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে এখনো সেই প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়া হয়নি। ফলে চলতি সপ্তাহে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দেয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না। মাউশির সূত্র মতেই শিক্ষকদের ‘প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ ধাপ মিলিয়ে ৩ লাখ ৪৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন ছাড়ের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন হওয়ার পর তা চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসারের কার্যালয়ে পাঠানো হবে। এরপর জিও জারি হলে শিক্ষক-কর্মচারীরা জানুয়ারি মাসের বেতন তুলতে পারবেন। সে হিসেবে চলতি সপ্তাহে বেতন হওয়ার সম্ভাবনা কম।
শিক্ষক-কর্মচারীদের জানুয়ারি মাসের বেতনের প্রস্তাব অনুমোদনের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব (বাজেট) লিউজা-উল-জান্নাহ বলেন, ‘জানুয়ারি মাসের বেতনের প্রস্তাব অনুমোদন দিতে আরো দুই-তিন দিন লাগবে।’ তিনি বলেন কিছু বিষয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ার কারণে এই বিলম্ব হচ্ছে। আশা করছি শিগগিরই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
প্রসঙ্গত গত ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ইএফটিতে বেসরকারি শিক্ষকদের এমপিওর বেতন-ভাতা দেয়ার ঘোষণা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের ২০৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীর অক্টোবর মাসের এমপিও ইএফটিতে ছাড় হয়। পরবর্তী সময়ে গত ১ জানুয়ারি ১ লাখ ৮৯ হাজার শিক্ষক ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতার সরকারি অংশের টাকা পেয়েছেন। দ্বিতীয় ধাপে ৬৭ হাজার, তৃতীয় ধাপে ৮৪ হাজার এবং চতুর্থ ধাপে ৮ হাজার ২০০ এর অধিক শিক্ষক-কর্মচারীকে ডিসেম্বর মাসের বেতন দেয়া হয়েছে। তবে তারা এখনো জানুয়ারি মাসের বেতন পাননি।
আরো সংবাদ
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা