ন্যায়বিচার কায়েম হলেই দেশে জুলুম বন্ধ হবে : অধ্যাপক মুজিবুর রহমান
- সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
- ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৯:০৫

ন্যায়বিচার কায়েম হলেই দেশে জুলুম বন্ধ হবে মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, ‘মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু গত ৫৪ বছর আমরা ভোটের অধিকার পাইনি।’
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে সাতক্ষীরার আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আশাশুনি উপজেলা জামায়াত আয়োজিত এক কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের আগামী নির্বাচনের জন্য জনমত গঠনের আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘বিগত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে মানুষ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোট দিতে পারেনি। কেন্দ্রে গেলে তাদেরকে বলা হয়েছে, আপনাদের ভোট দেয়া হয়ে গেছে, আপনারা চলে যান। সেদিন যুবকেরা কেন্দ্রে গিয়ে তাদের জীবনের প্রথম ভোট দিতে পারেনি। হায়েনার দল গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছিল, গণতন্ত্রকে তারা বহুদূরে নিয়ে গেছে। নতুন ভোটার হওয়া যুবকদের ভোট দিতে দেয়নি। সেখান থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছে।’
উপজেলা জামায়াতের আমির আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও সাবেক জেলা আমির মুহাদ্দিস রবিউল বাশার, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও জেলা আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম প্রমুখ ।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফসল ৫ আগস্ট। এদিন থেকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা পেয়ে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। ছাত্র আন্দোলনে জালেমরা পালিয়েছে। কিন্তু দেশে জুলুম এখনো বন্ধ হয়নি। দেশে আল্লাহর আইন চালু হলে জুলুম, নির্যাতন, হয়রানি বন্ধ হবে। দেশে ন্যায়বিচার কায়েম হবে। পুরুষ, মহিলা ও যুবকেরা জীবন দিতে শিখেছে। এ দেশের মানুষ জেগে উঠতে শিখেছে। জেগে ওঠা জনগণ কারো প্রভুত্ব মানবে না।’
প্রধান অতিথি আরো বলেন, ‘নির্বাচনী ব্যবস্থা বাংলাদেশে নেই। বিগত জালেম সরকারের লোকজন এখনো বহু জায়গায় ঘাপটি মেরে বসে আছে। এদেরকে সরাতে হবে। যারা ভোটাধিকার হরণ করেছে, গুলি করে মানুষ খুন করেছে, তাদের আগে বিচার করতে হবে। আগে বিচার, তারপর সংস্কার করে নির্বাচন। যারা নির্বাচনের জন্য তাড়াহুড়া করছেন তাদেরকে বলব, আপনারা কি আগের মতো নির্বাচন চান? না প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চান।’
মুজিবুর রহমান বলেন, ‘৭১ সাল থেকে গত ৫৪ বছর দেশ মানুষের আইন দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। মানুষের আইনে ভুল থাকতে পারে। কিন্তু আল্লাহর আইনে কোনো ভুল নাই। যারা আল্লাহর আইন মানে না তারা কাফের, ফাসেক, জালেম। আগামীতে যদি কেউ আল্লাহর আইন বাদ দিয়ে মানুষের আইন দিয়ে দেশ পরিচালনা করতে চায়, তা হবে না।’
তিনি বলেন, ‘যারা ইসলামের কথা বলে, তাদের সংসদে পাঠানো গেলে দেশে ইসলামি আইন বাস্তবায়ন হবে। আল্লাহর আইন ছাড়া দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।’
সম্মেলনে জেলা জামায়াতের নাবেয়ে আমির শেখ নুরুল হুদা, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আজিজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আব্দুস সোবহান মুকুল, আশাশুনি উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা নূরুল আবছার মোর্তজা প্রমুখ বক্তব্য দেন।
আরো সংবাদ
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা