মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান রোববার (২৪ মে) একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকা একটি প্রস্তাবের ‘বেশিভাগ আলোচনা সম্পন্ন’ হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন, চুক্তিটি এখনো ‘চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়’ রয়েছে।
একই সময়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, প্রাথমিক সমঝোতা হওয়ার পরই কেবল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও আরো কয়েকটি দেশের মধ্যে চুক্তির বেশিভাগ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘চুক্তিতে সম্মত অন্যান্য বহু বিষয়ের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীও খুলে দেয়া হবে।’
মাসের পর মাস ধরে ইরানের অবরোধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, প্রণালীটি খুলে দিলে তা থেকে স্বস্তি মিলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মিসর, জর্ডান ও বাহরাইনের নেতারা ছাড়াও তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা শনিবার তার সাথে ফোনালাপে অংশ নেন।
সেখানে চুক্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে ঐতিহাসিক সরাসরি বৈঠকের মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান খুব শিগগিরই আরেক দফা আলোচনার আয়োজন করতে চায় বলে জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
তিনি বলেন, শুক্রবার তেহরান সফর করা পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও ওই ফোনালাপে অংশ নেন। এটি চলমান শান্তি প্রচেষ্টা কিভাবে এগিয়ে নেয়া যায় এবং অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়, সে বিষয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করেছে।
ট্রাম্প বলেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে তার আলাদা ফোনালাপও ‘খুব ভালো’ হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘চুক্তির চূড়ান্ত দিক ও বিস্তারিত বিষয়গুলো এখন আলোচনা হচ্ছে। খুব শিগগিরই সেগুলো ঘোষণা করা হবে।’
নিউইয়র্ক টাইমস নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগে তেহরানের ‘সম্ভাব্য অঙ্গীকারের’ বিস্তারিত বিষয় প্রাথমিক চুক্তির পর আলোচনা হবে।
ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ইরানের হাতে এমন মজুত তারা মেনে নেবে না।
ইরানি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ প্রাথমিক আলোচনার অংশ হবে না বলেও তারা জানান।
নতুন করে হামলার আশঙ্কার বিষয়ে মার্কিন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার যুদ্ধ শুরু করলে কঠোর জবাবের মুখে পড়বে।
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির সময়ে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের এমনভাবে পুনর্গঠন করেছে যে ট্রাম্প যদি আরেকটি বোকামি করে যুদ্ধ আবার শুরু করেন, তবে তা যুদ্ধের প্রথম দিনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরো ভয়াবহ ও তিক্ত হবে।’
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, যুদ্ধের আরেকটি প্রধান ক্ষেত্র লেবাননেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইল হামলা চালিয়েছে। যদিও সেখানে ১৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।
লেবাননের সেনাবাহিনী জানায়, দক্ষিণাঞ্চলে তাদের একটি ব্যারাকে হামলা চালানো হয়েছে। এতে এক সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরাইল জানায়, সীমান্তের কাছে শুক্রবার তাদের এক সেনা নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরাইলে রকেট হামলা চালালে লেবাননও এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
হিজবুল্লাহ শনিবার জানায়, তাদের প্রধান নাঈম কাসেম ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছেন।
সেখানে বলা হয়েছে, লেবাননের এই গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করবে না তেহরান।
সূত্র: বাসস



