দক্ষিণ লেবানন ও উত্তর ইসরাইলে গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় অন্তত ১২টি বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির দাবি, ইসরাইলের সামরিক যান, ড্রোন জ্যামিং সিস্টেম এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’-এর লঞ্চার লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
মিডলইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের ধারাবাহিক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলোতে হামলার জবাব হিসেবেই এ পাল্টা আঘাত হেনেছে হিজবুল্লাহ। এতে সীমান্তজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
হিজবুল্লাহর দাবি, দক্ষিণ লেবাননের বিনত জবেইল এলাকায় তাদের ড্রোন হামলায় ইসরাইলি বাহিনীর একটি সামরিক প্রকৌশল যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া উত্তর ইসরাইলের জাল আল-আলাম এলাকায় একটি কারিগরি ডিভাইস ও কমান্ড যানেও সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে।
গোষ্ঠীটি আরো জানিয়েছে, লেবাননের বেকা অঞ্চলের আকাশে উড়ন্ত ইসরাইলের একটি ‘হেরন-১’ ড্রোনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হলে সেটি এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
এছাড়া ব্রানিট ও রামিম ব্যারাকে থাকা ইসরাইলের চারটি আয়রন ডোম লঞ্চার এবং তিনটি ড্রোন জ্যামিং সিস্টেম ধ্বংস করার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। একই সঙ্গে দেইর সিরয়ান ও বাইয়্যাদাতে অবস্থান নেওয়া ইসরাইলি সেনাদের ওপর কামান ও ড্রোন হামলাও চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হিজবুল্লাহর ফাইবার-অপটিক গাইডেড ড্রোন ইসরাইলের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এসব ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিহত করা কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এগুলোকে ‘বড় হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে সেনাবাহিনীকে প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।
মিডলইস্ট মনিটরের তথ্যমতে, মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা থাকলেও সীমান্তে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় লেবাননে ৩ হাজার ১০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১৬ লাখ মানুষ।
সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর



