হোয়াইট হাউসের বাইরে গুলি, সন্দেহভাজন নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস নিশ্চিত করেছে যে, হোয়াইট হাউসের বাইরে গুলি চালানোর পর পাল্টা গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসেই ছিলেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ঘটনাস্থলে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে
ঘটনাস্থলে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে |সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস নিশ্চিত করেছে যে, হোয়াইট হাউসের বাইরে গুলি চালানোর পর পাল্টা গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসেই ছিলেন। তবে সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, ‘নিরাপত্তার আওতায় থাকা কোনো ব্যক্তি কিংবা কার্যক্রম এ ঘটনায় প্রভাবিত হয়নি।’

সিক্রেট সার্ভিসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যা ৬টার কিছুক্ষণ পর ১৭তম স্ট্রিট ও পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় এক ব্যক্তি তার ব্যাগ থেকে একটি অস্ত্র বের করে গুলি চালানো শুরু করে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘সিক্রেট সার্ভিস পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়, এতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় একজন পথচারীও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।’

এতে জানানো হয় যে, কোনো কর্মকর্তা আহত হননি। ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসে অবস্থান করছিলেন, তবে কোনো নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কার্যক্রম এতে প্রভাবিত হয়নি।

ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে এবং আরো তথ্য পাওয়া গেলে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সিক্রেট সার্ভিস।

তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র সিবিএস নিউজকে জানিয়েছে যে, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তিনি হলেন ২১ বছর বয়সী নাসেয়ার বেস্ট।

সূত্রটি আরো জানায়, এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এই ব্যক্তি হোয়াইট হাউসে প্রবেশের চেষ্টার সময় তাকে আগে থেকেই মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস গ্রেফতার করেছিল।

ওই ঘটনার পর মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কারণে তাকে একটি মনোরোগ চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল।

আরো যা জানা যাচ্ছে
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা প্রায় ৬টা নাগাদ হোয়াইট হাউসে উপস্থিত একাধিক সাংবাদিক পরপর কয়েকটি গুলির শব্দ শুনতে পান।

সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা সাংবাদিকদের দ্রুত ভবনের ভেতরে প্রেস ব্রিফিং কক্ষে নিয়ে যান এবং হোয়াইট হাউজ সম্পূর্ণ লকডাউনে রাখা হয়।

সিবিএস নিউজকে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ১৫ থেকে ৩০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছিল।

ধারণা করা হচ্ছে, একজন মাত্র বন্দুকধারী সিক্রেট সার্ভিস অ্যাজেন্টদের দিকে এগিয়ে এসে গুলি চালায়, তবে তিনি সফল হননি। এরপর অ্যাজেন্টরাও পাল্টা গুলি চালান।

পরে মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, এ ঘটনায় দু’জন আহত হয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহতদের একজন হলেন সন্দেহভাজন হামলাকারী, যার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে হোয়াইট হাউসের লকডাউন তুলে নেয়া হয়। গুলি চলার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসেই অবস্থান করছিলেন। তবে এ বিষয়ে এখনো তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এক মাস আগেই হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারেও এক বন্দুকধারী গুলি চালিয়েছিলেন।

হোয়াইট হাউসের কাছে গুলির শব্দ শোনা যাওয়ার সময় সেখানে অন্য কাজের জন্য উপস্থিত থাকা কয়েকজন সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এবিসি নিউজের প্রতিবেদক সেলিনা ওয়াং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ভিডিও ধারণ করার সময় হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে দ্রুত আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল ডজনখানেক গুলির শব্দ হচ্ছে। আমাদের দ্রুত দৌড়ে প্রেস ব্রিফিং রুমে যেতে বলা হয়েছিল, আর এখন আমরা সেখানেই অবস্থান করছি।’

ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিবিসির সংবাদদাতা টম বেনেট লিখেছেন যে, ওই এলাকায় পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।

যদিও হোয়াইট হাউসের বাইরে অবস্থানরত সিক্রেট সার্ভিস অ্যাজেন্টদের লক্ষ্য করে এক সশস্ত্র সন্দেহভাজন ব্যক্তি ব্যাগ থেকে অস্ত্র বের করে গুলি চালানোর ঘটনার চার ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে।

প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনের দিকে যাওয়ার রাস্তাগুলো বড় ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে এবং সড়কে অসংখ্য পুলিশ গাড়ি অবস্থান করছে।

নিরাপত্তা বেষ্টনীর আশপাশে বহু সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী জড়ো হয়েছেন।

টম বেনেট লিখেছেন, ‘আমি দু’জন সশস্ত্র পুলিশ কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা ঘটনাটি পর্যালোচনা করছেন এবং সম্ভবত পুরো রাতজুড়েই রাস্তাগুলো বন্ধ রাখা হবে।’

তার বর্ণনা অনুযায়ী, শহরের বাকি অংশে স্বাভাবিক পরিস্থিতিই দেখা যাচ্ছে। কয়েক ব্লক দূরের রেস্তোরাঁ ও বারগুলোতে মানুষ শনিবার রাত উপভোগ করছেন।

সূত্র: বিবিসি