২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৬ শাবান ১৪৪৬
`

মৃগীরোগীর স্বাভাবিক জীবনযাপন

মৃগীরোগীর স্বাভাবিক জীবনযাপন -

নিউরোলজিস্ট যখন কাউকে বলেন, আপনার প্রিয়জন মৃগীরোগে আক্রান্ত হয়েছেন তখন পরিবারের সবাই ভয়ে কুঁকড়ে যান। অনেকে আছেন শিশুদের লেখাপড়া বন্ধ করে দেন। তারা ভাবেন মৃগীরোগ হলে কেউ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন না। এটা খুবই ভুল ধরণা।
অনেকে বলেন, লেখাপড়া করে কী হবে, আমার সন্তান তো স্বাভাবিক না। আমার সন্তান তো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে না।
মৃগীরোগ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনে কোনো সমস্যা করে না। আলেকজান্ডার দি গ্রেটের নাম শুনেছেন। তার মতো দ্বিগবিজয়ী যোদ্ধা কিন্তু কমেই জন্মেছে এ জগতে। তিনি ছিলেন মৃগীরোগে আক্রান্ত।
এরিস্টটলের নাম শোনেননি এমন লোক কি আছেন? তার মতো দার্শনিক তো কমই আছে। তিনি কিন্তু মৃগীরোগে আক্রান্ত ছিলেন। সবচেয়ে অবাক হবেন বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল কিন্তু মৃগীরোগে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি ডিনামাইটের আবিষ্কারক ছিলেন। তার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩৫০টি জিনিসের স্বত্ব এবং ২০টি দেশে অনেক কারখানা এবং ল্যাবরেটরির মালিক ছিলেন। যদি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে না পারতেন তাহলে এত্ত বড় বিজ্ঞানী কিভাবে হলেন?
আমেরিকার প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কত আমরা সবাই জানি। থিওডোর রুজভেল্ট ছিলেন আমেরিকার ২৬তম প্রেসিডেন্ট। এ ক্ষমতাধর ব্যক্তিটি কিন্তু মৃগীরোগে আক্রান্ত ছিলেন।
শুধু এরাই নন, আরো কত বিখ্যাত ব্যক্তি যে মৃগীরোগী ছিলেন তার ইয়ত্তা নেই। এরা যদি মৃগীরোগ নিয়ে বিশ্বজয় করতে পারেন, বিশ্ববরেণ্য হতে পারেন তাহলে আপনার শিশু বা প্রিয়জন কেন নয়?
মৃগীরোগে আক্রান্ত শিশুরা স্বাভাবিক স্কুলেই পড়তে পারে। স্বাভাবিক অন্য বাচ্চাদের মতোই খেলাধুলা করতে পারে। তবে সাবধান হতে হবে মৃগীরোগ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত পানিতে সাঁতার কাটা, নদী-পুকুরে নামা, আগুনের কাছে যাওয়া, ধারালো বস্তু নিয়ে কাজ করা, গাড়ি ড্রাইভিং করা এবং একাকী রাস্তা পারাপার হওয়া যাবে না। রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকলে স্বাভাবিক সব কিছুই করা সম্ভব।
স্কুলের শিক্ষকদের আপনার সন্তানের মৃগীরোগের কথা জানিয়ে রাখুন। খিঁচুনি শুরু হলে কী করতে হবে তাও জানান।
মৃগীরোগ হলে স্বাভাবিক জীবনযাপনে কোনো বাধা নেই। তবে মৃগীরোগের ওষুধ নিয়মিতভাবে খেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। ওষুধ বন্ধ করলে খিঁচুনি দেখা দেবে। শিশুদের হাতে ওষুধ না দিয়ে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ওষুধ খাওয়ান।
লেখক : নিউরোলজিস্ট, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস (নিনস)


আরো সংবাদ



premium cement