সরকারকে বিপদে ফেলতে ‘প্লান বি’ আ’লীগের
- মনিরুল ইসলাম রোহান
- ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০০:০০
অন্তর্বর্তী সরকারকে বিপদে ফেলতে ‘প্লান বি’ নিয়ে এগোচ্ছে পতিত আওয়ামী লীগ। যদিও এর আগে ‘প্লান এ’ এর অংশ হিসেবে জুডিশিয়াল ক্যুসহ কয়েকটি গোপন কৌশলের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের জন্য ছক কষে ব্যর্থ হয়েছে দলটি। অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাতের সেই আশা ফিকে হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে রাজনীতিতে পুনর্বাসন হওয়ার টার্গেট নিয়ে ‘প্লান বি’ বাস্তবায়নে কাজ করছে দলটির হাইকমান্ড।
শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৃণমূলে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ দেশের বর্তমান রাজনীতির সাথে মিশে গিয়েছে। তারা কোনো ঝক্কি ঝামেলায় জড়াতে চাইছে না। আরেকটি অংশ আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। কিছু অংশ বাইরে থাকলেও সংখ্যার দিক দিয়ে একেবারে নগণ্য হওয়ায় মাঠের রাজনীতি এই মুহূর্তে চাঙা করা সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে ফেব্রুয়ারিজুড়ে হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচির ডাক দিয়েও ব্যর্থ হতে হয়েছে। রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দুয়েকটি ঝটিকা মিছিল ছাড়া তেমন কিছুই করা সম্ভব হয়নি। নেতাদের মতে, আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় কর্মসূচি ডাক দিয়ে যখন দেশের অভ্যন্তরে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মী থাকা সত্ত্বেও তাদের মাঠে নামানো যায়নি তখন কৌশল পরিবর্তন করতে হয়েছে। এখন টার্গেট রাজনীতিতে পুনর্বাসন হওয়া। নেতারা মনে করছেন, দেশের রাজনীতিতে কোনোভাবেই পুনর্বাসন হতে পারলে আগামী ১০-১৫ বছর পরে হলেও ক্ষমতায় যাবে আওয়ামী লীগ। এ জন্য ‘প্লান বি’ বাস্তবায়ন করার জন্য খেলছে আওয়ামী লীগ। দলটির তৃণমূল পর্যায় এবং সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতার সাথে আলাপকালে এসব তথ্য জানা গেছে।
আলাপকালে সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা জানান, ‘প্লান বি’ বাস্তবায়নের জন্য আওয়ামী লীগ আমলের সুবিধাভোগী কিছু আমলা, সুবিধাভোগী পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থাসহ বিশেষ বাহিনীর সুবিধাভোগী কর্মকর্তারা কাজ করছেন। তারা সামাজিক মাধ্যম দিয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন ভারতে পালিয়ে যাওয়া পতিত আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনার সাথে। দিল্লি থেকে শেখ হাসিনা যেভাবে ছক বাস্তবায়নে নির্দেশনা দিচ্ছেন সেই ভাবেই ওইসব কর্মকর্তারা কাজ করছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করলেও দেশের অভ্যন্তরে থাকা বাছাইকৃত কিছু নেতাকর্মীর সাথে সামাজিক মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। ওই নির্দেশনার আলোকে বিভিন্ন ইস্যু ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তারা অনলাইন-অফলাইনে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের নজিরবিহীন পতনের পর ৬২৬ জন মন্ত্রী-এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সেনাবাহিনীর আশ্রয়ে ছিলেন। ওই সময় সেনাপ্রধান এ তথ্য গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরে ছিলেন। ওই ৬২৬ জনের বড় একটি অংশ বিদেশে পালিয়ে গেলেও কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রী-এমপিদের কিছু অংশ এখনো দেশের অভ্যন্তরে রয়েছেন। তাদের কেউ কেউ গ্রেফতার হয়ে কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন। আর বাইরে থাকা নেতৃবৃন্দ দেশের বিশেষ এলাকা সংশ্লিষ্ট অভিজাত ও বর্ণাঢ্য এলাকায় গোপনীয়তার সাথে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রতিবেশী দেশ ভারতীয় দূতাবাসের সাথেও সংযোগ রেখে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন। অবশ্য নির্ভরযোগ্য ওই সূত্রটি তথ্য দিয়ে সহায়তা করলেও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দেশে অবস্থান সম্পর্কিত কোনো ভিডিও ফুটেজ বা ছবি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
ওই সূত্রটি আরো জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের ‘প্লান বি’ এর একটি অংশ হলো বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে একটি দ্বন্দ্ব তৈরি করা। দেশের রাজনীতিতে এখন যে অস্থিরতা চলছে তাতে ঘি ঢালছেন ওই নেতারা। তারা অনেকটা সফলও হয়েছেন। বক্তৃতা-বিবৃতিতে কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না, এমনকি অনলাইনে রীতিমতো বিএনপি-জামায়াত বাকযুদ্ধ চলে। এর মাধ্যমে রাজনীতিতে ফায়দা নিতে কাজ করছে ওইসব নেতৃবৃন্দ। তাদের মতে, দেশে এখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। যেখানে সেখানে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এসব কাজে ইন্ধন জোগাচ্ছে দেশের অভ্যন্তরে থাকা ওইসব নেতৃবৃন্দ। দেশের অভ্যন্তরে থাকা আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের অপেক্ষাকৃত অপরিচিত ও ছোট পদধারী এমন নেতাকর্মীদের মাধ্যমে অস্থিরতার ছক বাস্তবায়নে কাজ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনও হচ্ছে বলে জানা গেছে।
দেশকে অস্থিতিশীল করে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য বড় অংকের অর্থ ছড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম এবং একই সঙ্গে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ এবং তার দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করতেছে। তারা প্রচুর টাকা দেশ থেকে স্থানান্তর করেছে। ওই টাকা এখন তারা ব্যবহার করতেছে। ওই টাকা বিভিন্নভাবে বিভিন্নজনের মাধ্যমে ব্যবহার করে দেশকে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করতেছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমরা এটা কোনোভাবেই করতে দেবো না। যেভাবে হোক এটা প্রতিহত করা হবে। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য আওয়ামী লীগ যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে তাতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে, কোনো ছাড় আমরা দেবো না। তিনি আরো বলেন, দিন দিন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং হতে থাকবে। আওয়ামী লীগের যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে ফায়দা নিতে চায় তাদের আমরা শান্তিতে ঘুমাতে দেবো না। তারা যেখানেই অবস্থান করুক অপারেশন ডেভিল হান্টের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
আরো সংবাদ
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা