২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৭ শাবান ১৪৪৬
`

মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আজহারের আপিল শুনানি ২২ এপ্রিল

-

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের আবেদন পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য মঞ্জুর করে আপিলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। চারটি গ্রাউন্ডে লিভ (আপিলের অনুমতি) মঞ্জুর করে আগামী ২২ এপ্রিল আপিলের শুনানির দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। গতকাল বুধবার প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বিভাগের বেঞ্চ রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। একইসাথে আদালত আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলেছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কোনো মামলায় রিভিউ আবেদনে এই প্রথম লিভ মঞ্জুর হলো বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
আদালতে রিভিউ আবেদনের শুনানি করেন ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন ও সৈয়দ মো: রায়হান উদ্দিন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম শুনানিতে অংশ নেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। শুনানিতে জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার মামলার রিভিউ কিভাবে আসে, সংবিধানের ৪৭ এ ও ৪৭(৩) অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন। অপর দিকে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিমের কাছে লিভ গ্রান্ডের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন লিভ গ্রান্ড করা যেতে পারে।
আপিল বিভাগের আদেশের বিষয়ে ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক বলেন, চারটি গ্রাউন্ডে এ টি এম আজহারের রিভিউ মঞ্জুর হয়েছে। দুটি মেইন গ্রাউন্ড। প্রথম গ্রাউন্ড হচ্ছে আপিল বিভাগ ২০১৯ সালে এই মামলায় যে রায় দিয়েছিলেন সেখানে উনারা আন্তর্জাতিক আইন মানেননি। ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে রিকয়ারমেন্ট ছিল আন্তর্জাতিক আইন প্রতিপালন করা। এটা একটা বড় গ্রাউন্ড। আইনেই বলা আছে আন্তর্জাতিক আইন মানতে হবে। কিন্তু উনারা মানেননি। এই মেইন গ্রাউন্ডে রিভিউ মঞ্জুর হয়েছে।
দ্বিতীয় যে গ্রাউন্ডে রিভিউ মঞ্জুর হয়েছে তা হলো- উনারা আইনটাকে যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং যেভাবে আন্তর্জাতিক আইন বাদ দেয়া হয়েছে, উনাদের সেই ব্যাখ্যাটা অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণদিত ছিল। কারণ আইনে স্পষ্ট বলা আছে আন্তর্জাতিক আইন মেনে রায় দিতে হবে। উনারা যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে ছিল। এই গ্রাউন্ডেও আমাদের রিভিউ আবেদন মঞ্জুর হয়েছে এবং লিভ গ্রান্ড হয়েছে। ২২ এপ্রিল মূল আপিলটা শুনানি হবে। তিনি বলেন, তৃতীয় পয়েন্ট ছিল এই কেসের সাথে রিলেটেড, সেটা হলো ফ্যাক্সচুয়াল পয়েন্ট। সেটা হচ্ছে সাক্ষী অনেক দূর থেকে অর্থাৎ তিন কিলোমিটার দূর থেকে দেখেছে। পাঁচ কিলোমিটর দূর থেকে শনাক্ত করেছে। এভাবে মানুষের পক্ষে চিহ্নিত করা সম্ভব না। একটা মানুষকে পাঁচ কিলোমিটার দূর থেকে শনাক্ত করা সম্ভব না। চতুর্থ পয়েন্ট ছিল কিছু ডকুমেন্টারি এভিডেন্স। ওই এভিডেন্স উনারা বিবেচনায় নেননি। উনারা বলেছেন, যিনি সাক্ষী দিয়েছেন তিনি বলেছেন এ টি এম আজহার ও আমরা ক্লাসমেট। কিন্তু ডকুমেন্টে দেখা যাচ্ছে আসলে উনি এ টি এম আজহারের ক্লাসমেট না।
ব্যারিস্টার সিদ্দিক বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এটাই প্রথম কেস, রিভিউ থেকে আপিলে এসেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই রিভিউ আবেদনে আমরা পুরো বিচার প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করেছি। আবদুল কাদের মোল্লার যে রায় দেয়া হয়েছে ওই রায়টা সঠিক নয়। এটাও আমরা চ্যালেঞ্জ করেছি। তিনি আরো বলেন, যখন আপিল শুনানি হবে এবং আমাদের বক্তব্য যদি গ্রহণ করা হয় তখন অবশ্যই প্রশ্ন আসবে জামায়াতে ইসলামীর নেতা আবদুল কাদের মোল্লা সাহেবের রায় এবং তার পরে যত রায় হয়েছে সেখানে অবিচার হয়েছে কিনা সেটা আমরা উত্থাপন করতে পারব। এটা নির্ভর করবে ২২ তারিখে এ টি এম আজহারের যে আপিলটা শুনানি হবে সেটার ওপর। এর আগে মঙ্গলবার আপিল বিভাগে এ রিভিউ আবেদনের শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইন এই মামলায় প্রযোজ্য হবে না বলে আপিল বিভাগ এর আগে যে রায় দিয়েছিলেন সে বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি আদালতে বলেন, এ মামলায় প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইন প্রযোজ্য হবে।
গত ৯ জানুয়ারি রিভিউ আবেদনের বিষয়টি উত্থাপন করেন সিনিয়র আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেছিলেন, তিনি ১০ বছর ধরে মৃত্যুর সেলে আছেন। জরুরি ভিত্তিতে উনার রিভিউ আবেদন শুনানি করা দরকার। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে ২৩ জানুয়ারি শুনানির দিন ঠিক করেন।
২০২০ সালের ১৯ জুলাই খালাস চেয়ে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিভিউ আবেদন করেছিলেন এ টি এম আজহারুল ইসলাম। ২৩ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে ১৪টি যুক্তি দেখিয়ে উনার খালাস চাওয়া হয়।
২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর এ টি এম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির পর ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর এ টি এম আজহারুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে রায় দেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
আপিল বিভাগের রায়ে এ টি এম আজহারে বিরুদ্ধে আনা ২, ৩ ও ৪ নং অভিযোগে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। এ ছাড়া ৫ নং অভিযোগে অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণসহ অমানবিক অপরাধের দায়ে ২৫ বছর কারাদণ্ড থেকে খালাস দেয়া হয়। এ ছাড়া ৬ নম্বর অভিযোগে নির্যাতনের দায়ে পাঁচ বছর কারাদণ্ডাদেশ বহাল রাখা হয়। এর আগে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি ১১৩ যুক্তিতে এ টি এম আজহারকে নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়ে আপিল করেন তার আইনজীবীরা। ২০২০ সালের ১৫ মার্চ এ মামলার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এ টি এম আজহারুল ইসলাম বর্তমানে কারাগারে আছেন।


আরো সংবাদ



premium cement
ইংল্যান্ডের বিদায়, আশায় আফগানিস্তান পাটজাত পণ্যে ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কের সমাধান চায় বিজেএসএ আমরা ক্ষমতায় গেলে পুঁজিবাজারকে ধারণ করব : আমীর খসরু প্রহসনের কোনো নির্বাচনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ অংশ নেয়নি : আব্দুল আজিজ হাওলাদার ১-৩ গোলে হার বাংলাদেশের ব্যাংকে কত টাকা আছে জানালেন নাহিদ ইসলাম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাংশের বিক্ষোভ আজ ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে রাখাইনে স্বীকৃতি পেতে পারে আরাকান আর্মি ভোরে পুলিশের টহল কার্যক্রম পরিদর্শন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ছাত্রদের নতুন কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা বেসরকারি শিক্ষার্থীদের ইংল্যান্ডকে বিদায় করে স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল আফগানিস্তান

সকল