মূল সমস্যাগুলো দূর করুন
- ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০০:০০
ব্যাংক খাত অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত। গত ১৫ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনে এই খাতেই হয়েছে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম, দুর্র্নীতি ও লুটপাট। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ে। গত আগস্টের রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের আগের দুই বছরে অর্থনীতির সব সূচকে নেতিবাচক প্রবণতা তার সাক্ষ্য।
ফ্যাসিবাদের পতনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ব্যাংক খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। গত মঙ্গলবার অর্থনীতি-বিষয়ক এক সেমিনারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বলেছেন, কিছু ব্যাংকের অবস্থা এতটাই নাজুক যে, সেগুলো বাঁচিয়ে রাখা অসম্ভব হতে পারে। মুমূর্ষু এসব ব্যাংক উচ্চ খেলাপি ঋণ ও অনিয়মে জর্জরিত। কয়েকটা ব্যাংকের ৮৭ ভাগ ঋণই একটা গ্রুপকে দেয়া হয়েছে এবং সে ঋণের পুরোটাই খেলাপি হয়ে পড়েছে।
গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার নানা দিক তুলে ধরে বলেন, বেশ কিছু সরকারি ব্যাংকও সমস্যায় আছে। সেগুলো তত্ত্বাবধান করা হচ্ছে। শিগগিরই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক ও ইউসিবি সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হচ্ছে বলেও জানান গভর্নর। ব্যাংক দুটি নতুন করে আর্থিক সহায়তা চাচ্ছে না। এদের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এই তথ্য ব্যাংক দুটির গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু আমাদের ভাবতে হবে গোটা ব্যাংক খাত নিয়েই। ব্যাংক খাতের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে জরুরি। আর এ জন্য দরকার সব ব্যাংক যেন সবল ও সক্ষম হয়ে উঠতে পারে এমন ব্যবস্থা নেয়া।
ফ্যাসিবাদী শাসনে ব্যাংক বিপর্যস্ত হওয়ার কারণগুলো অর্থনীতিবিদ, বিশ্লেষক, বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিক সবাই জানেন। সচেতন নাগরিকরাও বেখবর নন। এর পেছনে অনিয়ম, দুর্নীতি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ইত্যাদি নানা কারণ আছে।
অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরা সব সময়ই কারণগুলো বিশ্লেষণ করেছেন এবং প্রায়ই জাতির সামনে তুলেও ধরেছেন। ফ্যাসিস্ট শাসক দেশে যে ভীতির সংস্কৃতি তৈরি করেছিল সে কারণে সব সময় সত্যকথা বলার সুযোগ ছিল না। কিন্তু অর্থনীতি বা ব্যাংক খাতের সমস্যাগুলো তারা গণমাধ্যমে কিছুটা হলেও তুলে ধরেছেন।
তারা বারবার বলেছেন, ব্যাংক খাতের বিপর্যয়ের কারণ সুশাসনের অভাব, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণ ও তারল্য সঙ্কট। ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাচার হওয়ায় ব্যাংকগুলো দুর্বল হয়েছে। ঋণ দেয়ার ক্ষমতা হারিয়েছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়েছে। মূলত তারল্য সঙ্কট, গ্রাহকের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দিতে না পারা, মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণ, অর্থ পাচার ইত্যাদি সব কিছুই ঘটেছে সুশাসনের অভাবে। জাল-জালিয়াতি রোধের ব্যবস্থা কখনো নেয়া হয়নি, অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচার ও শাস্তি দেয়া হয়নি বরং প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে। সে কারণে অপরাধীরা দ্বিগুণ উৎসাহে অপরাধ ঘটিয়েছে।
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ কার্যত দেশের অর্থনীতিতে নেই। কিন্তু হিসাবে আছে। সেই হিসাবের ভিত্তিতেই জিডিপি ইত্যাদি নির্ধারিত হচ্ছে। এটি শোধরানো জরুরি।
বর্তমান সময়ে ব্যাংক খাতসহ অর্থনীতির সব দিক বিচার-বিশ্লেষণ করে দরকারি পদক্ষেপ নেয়া হলে সঙ্কট থাকবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস।
আরো সংবাদ
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা