ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য
- ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০০:০০
শুধু রাজধানী ঢাকাতেই প্রতিদিন আনুমানিক ২৩০ টন মানববর্জ্য উন্মুক্ত জলাশয়ে গিয়ে পড়ে। ফলে গুরুতর পরিবেশ দূষণ ঘটছে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী- বিশেষ করে শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে সাড়ে ছয় কোটির বেশি মানুষ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার সুবিধাবঞ্চিত। মঙ্গলবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল টয়লেট কনফারেন্সে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সম্মেলনে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেছেন, শিশুদের স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে, কিন্তু নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে তাদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার পথ সঙ্কীর্ণ হয়ে যায়। সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ প্রচেষ্টায় টেকসই পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
ইউনিসেফের তথ্যমতে, ১৯৯০ সালে উন্মুক্ত স্থানে মল ত্যাগের হার ছিল ৩৪ শতাংশ, যা ২০১৫ সালের মধ্যে ১ শতাংশেরও নিচে নেমে আসে। তবে ২০২২ সালের ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচওর যৌথ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশের ৪১ শতাংশ মানুষ উন্নত স্যানিটেশন সুবিধার আওতার বাইরে। আবার ২০২৪ সালে ভয়াবহ বন্যায় এক কোটি ৩০ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে অনেকে কার্যকর স্যানিটেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। ঘন ঘন বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি স্যানিটেশন অবকাঠামোর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশনের বিষয়টি বহুলাংশে শিক্ষা ও অর্থনীতির সাথে জড়িত। রাজধানী ঢাকার রাস্তাঘাটে ভ্রাম্যমাণ টয়লেট ছিল, কিন্তু সেগুলো আর নেই। যদিও সিটি করপোরেশনের আওতাধীন নানা জায়গায় পাবলিক টয়লেট করা হয়েছে, যা জনসংখ্যার অনুপাতে মোটেও যথেষ্ট নয়। ফলে রিকশাচালক, ভ্যানওয়ালাসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ অনেক সময় প্রাকৃতিক কাজটি রাস্তাঘাটেই সেরে ফেলেন। রাজধানীতে মোবাইল টয়লেটের ব্যবস্থা থাকলে এগুলো এড়ানো যেত।
ঢাকার মানববর্জ্য আশপাশের চারটি নদীতে চলে যায়। যার ফলে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হলো- ঢাকার কিছু এলাকার ওয়াসার পানিতে মল পাওয়া গেছে। এগুলো যে ঢাকার দুর্বল মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনার কুফল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
অন্য দিকে গ্রামের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য শিক্ষা ও সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন আর্থিক সহযোগিতার। আর্থিক সঙ্কটের কারণে এখনো মানুষের স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা রয়েই গেছে।
ওয়াটার এইডের মতে, অনুন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে প্রতি বছর বাংলাদেশের আনুমানিক ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে, যা দেশের ২০১৮ সালের জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ। অবশ্য ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বর্তমানে যে গতিতে কাজ হচ্ছে তা অন্তত আট গুণ বাড়ানো প্রয়োজন।
সময়ের সাথে সাথে আমাদের অনেকের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়ছে। দেশে বাড়ছে শিক্ষার হারও। কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ছে কম। পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় আরো বিনিয়োগের পাশাপাশি এ বিষয়ে জনসচেতনতাও বাড়ানো প্রয়োজন। প্রয়োজন উন্নত মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনার। যার মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি দূর হবে, এড়ানো সম্ভব হবে পরিবেশের ক্ষতি।
আরো সংবাদ
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা