২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৬ শাবান ১৪৪৬
`
‘শৌচাগার নির্মাণেও দুর্নীতি’

দুর্নীতির ‘মা-বাপ’ নেই

-


কুমিল্লার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের আওতায় মাত্র ৬০ কোটি টাকার শৌচাগার নির্মাণেও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শৌচাগারের রিং ও স্ল্যাব তৈরি করা হচ্ছে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে। বরাদ্দ অর্থের একাংশ যাচ্ছে কর্মকর্তাদের পকেটে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা।
একটি সহযোগী দৈনিকের কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, ঠিকাদারদের অভিযোগ, প্রতিটি শৌচাগারে সরকারি বরাদ্দ ৩৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি ভ্যাট কেটে নেয় পাঁচ হাজার টাকা। অবশিষ্ট ৩০ হাজার টাকার মধ্যে তিন হাজার টাকা জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীকে, দুই হাজার টাকা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীকে দিতে হয়। বাকি ২৫ হাজার টাকার মধ্যে শৌচাগার নির্মাণ করে ঠিকাদারকেও ‘লাভ’ গোছাতে হয়।

এভাবেই তৈরি হচ্ছে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে জেলার আটটি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ২২৯টি করে শৌচাগার। প্রায় ১৭ হাজার শৌচাগার নির্মাণের জন্য ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ আসে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব কাজ করছেন ২০ জন ঠিকাদার।
সরেজমিন দেখা যায়, শৌচাগার তৈরির বিভিন্ন সামগ্রী ইট, বালু, সিমেন্ট, টিন, কাঠ ও পিলার খুবই নিম্নমানের। এসব সামগ্রী দিয়ে তৈরি বেশির ভাগ রিং ফাটল ধরা। এ নিয়ে শ্রমিক সর্দার সেলিম বলেন, ‘যে রিংগুলো ফাটল ধরছে, সেগুলো আমরা পাল্টে দিচ্ছি। আর মালিকের নির্দেশমতোই আমরা কাজ করছি।’
জোড্ডা পশ্চিম ইউপি সদস্য কালাম বলেন, ‘কোনোমতে দায়সারাভাবে কাজ করে গরিব মানুষকে বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে। কয়েকটি শৌচাগার ভেঙে দেখলে তার প্রমাণ পাওয়া যাবে।’
জোড্ডা পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, ‘শৌচাগার তৈরির জন্য সংশ্লিষ্টদের ট্রেনিং দেয়া হয়েছে। তবে ট্রেনিং অনুযায়ী শৌচাগার হয়নি। খুবই নিম্নমানের হয়েছে। আমাদের কাছে এ নিয়ে অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন।’

একজন ঠিকাদার বলেন, কর্মকর্তাদের তুষ্ট করে এবং ভ্যাট কেটে নেয়ার পর যে টাকা থাকে তা দিয়ে মানসম্মত শৌচাগার নির্মাণ সম্ভব নয়। আরেকজন ঠিকাদার বলেন, ‘মোটামুটি ভালো কাজ হচ্ছে’। নাঙ্গলকোট উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকৌশলী বলেন, ‘যেখানে নিম্নমানের কাজ হবে, সেখানে আমরা কাজ বন্ধ করে দেবো।’ দুই হাজার টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
কুমিল্লা জেলা জনস্বাস্থ্য অধিদফতর প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বলেন, ‘সুষ্ঠুভাবেই কাজ চলছে’। টাকা নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক তবিবুর রহমান বলেন, ‘শুধু কুমিল্লা নয়, সারা দেশে কাজ চলছে। কুমিল্লার বিষয়টি দেখছেন জেলা প্রকৌশলী। কোনো কাজে অনিয়মের অভিযোগ পেলে তা বন্ধ করে দেয়া হবে।’
দুর্নীতিবাজদের কাছে সব সমান। ওদের কাছে শৌচাগার বা কী, ধনাগারও বা কী। দুর্নীতি থাকলে সমাজদেহে পচন ধরে, ছোট দুর্নীতি বড় দুর্নীতির উৎস। কোনো দুর্নীতিকে অবহেলা করতে নেই। কারণ ছোট দুর্নীতিই একদিন মহীরুহের আকার ধারণ করে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে কঠোর হতে হবে। অন্যথায় দুর্নীতি পুরো সমাজকে গ্রাস করে নেবে।


আরো সংবাদ



premium cement
বৈশ্বিক স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের উন্নতি বাংলাদেশ-কোরিয়ার মধ্যে ইপিএ স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলছে : কোরিয়ান রাষ্ট্রদূত রমজানে নিত্যপণ্যের দাম কমিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার : ধর্ম উপদেষ্টা ৪৬ হাজার বছর পর জীবন ফিরে পেল হিমায়িত কীট ডিএনসিসির আওতাধীন খালের টেকসই উন্নয়নে সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক ইবরাহীম ঝড়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ইংল্যান্ড সিরিয়ায় সামরিক অবস্থানের ঘোষণা নেতানিয়াহুর, দামেস্কসহ কয়েকটি শহরে প্রতিবাদ ডিসেম্বরেই নির্বাচন করা সম্ভব : ইসি আনোয়ারুল ৩ নির্বাচনে বাংলার মানুষ ভোট দিতে পারেনি : মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সামনে অবস্থান নিয়েছেন জুলাই আন্দোলনে আহতরা উপদেষ্টা মাহফুজ পেলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব

সকল