রোগীদের দুর্ভোগ মানা যায় না
- ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০০:০০
সরকারি হাসপাতালের শিক্ষানবিস চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। ফলে সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা বিঘি্ণত হচ্ছে। তাদের কর্মসূচির প্রভাবে গত রোববার জরুরি বিভাগে সেবা পাননি রোগীরা। গুরুতর অসুস্থরা পাননি চিকিৎসা। সহযোগী একটি দৈনিকের খবরে জানা যাচ্ছে, বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তারের সংখ্যা ২০০। প্রতিদিন ৫০ জন ডাক্তার কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। এই হাসপাতালে রোগী আছেন এক হাজার ৭৬৫ জন। ডাক্তার-রোগীর অসম অনুপাতের কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিক্ষানবিস ডাক্তাররাই ভরসা। কর্মবিরতির কারণে এই হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশের সব সরকারি হাসপাতালে শিক্ষানবিস ডাক্তারদের কর্মবিরতির প্রভাব বিভিন্ন মাত্রায় পড়েছে। প্রায়ই এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির উদ্ভব হলেও এর কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
শিক্ষানবিস ডাক্তাররা তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছেন দীর্ঘ দিন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য বন্ধ, যারা ডাক্তারি না পড়েও সনদ সংগ্রহ করে রোগীদের প্রতারণা করে। এ ছাড়া চিকিৎসাভাতা বাড়ানো, কর্মস্থলে শূন্য পদে নিয়োগদানের দাবিও রয়েছে তালিকায়, যাতে কর্মস্থলে অতিরিক্ত চাপ কমে এবং ছুটি ও প্রয়োজনীয় অবসর পাওয়া যায়। মানহীন বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ বন্ধসহ আরো কিছু ন্যায্য দাবিও আছে তাদের। এসব দাবির সাথে অন্যান্য চিকিৎসা সংগঠন এবং মেডিক্যাল শিক্ষার্থীরাও একমত। আজ মঙ্গলবার লং মার্চ টু হাইকোর্ট কর্মসূচি রয়েছে আন্দোলনকারীদের।
শিক্ষানবিস চিকিৎসকদের প্রায়ই দেখা যায় দাবিদাওয়া আদায়ে আন্দোলন করতে। এর মধ্যে কর্মবিরতিও থাকে। অন্যান্য ডাক্তারও একই ধরনের অন্দোলন কম বেশি করেন। সব ক্ষেত্রে রোগীরা ভুক্তভোগী। যাদের প্রয়োজনীয় অর্থ আছে তারা প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নেন, ধনীরা চলে যান বিদেশে। চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার। রাষ্ট্র এই অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে। বাস্তবে দেখা যায়, ডাক্তারদের দাবি আদায়ে রোগীরা জিম্মি হয়ে যাচ্ছেন। ডাক্তাররা ভিত্তিহীন দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন এমনটা বলা যাবে না; কিন্তু যেকোনো কারণে রোগীরা যাতে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন সেটি রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক জরিপে জানা যাচ্ছে, দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, মেডিক্যাল শিক্ষক, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর কর্মস্থলে রাজনীতি করার বিপক্ষে। চিকিৎসাসেবায় বিঘ্ন ঘটানোর সুযোগ যাতে কোনোভাবে না থাকে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে জনমানুষের এমন চাওয়া। মন্দ রাজনীতির প্রভাব দেশের প্রতিটি খাতকে গ্রাস করেছে। যোগ্যতা দক্ষতা সততার বদলে রাজনৈতিক সংযোগ উপরে ওঠার মাপকাঠি হয়ে উঠেছে। এ কারণে সব খাত ধুঁকছে, সেবাবঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। সে কারণে স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থায় রাজনীতি না থাকাই যৌক্তিক। বিশেষ করে রোগীদের জিম্মি করে দাবি আদায় কোনো সভ্য সংস্কৃতি হতে পারে না।
চিকিৎসা একটি অত্যাবশ্যক সেবা। এটিকে অন্যান্য খাতের চেয়ে ভিন্নভাবে গণ্য করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের এমন প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে যে, তারা ব্যক্তিগত বা সামষ্টিক কোনো স্বার্থ আদায়ে রোগীদের জিম্মি করবে না। অন্য দিকে রাষ্ট্রকেও স্বাস্থ্যসেবার সাথে জড়িতদের দাবিদাওয়া ন্যায্যতার ভিত্তিতে মেটাতে হবে।
আরো সংবাদ
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা