খুশবুয়ে রমাদান
- উম্মেহানী বিনতে আব্দুর রহমান
- ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০০:০০
দ্বিতীয় হিজরিতে রমাদানের সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, এ হিসেবে গুরুত্ব ও মর্যাদা সম্বলিত সিয়াম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেয়েছেন আটবার। এ স্বল্পসংখ্যক রমাদান পেয়েও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে পরিমাণ ইবাদাতের নমুনা আমাদের সামনে রেখে গেছেন সে অনুযায়ী আমল আমরা কি জীবনে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি? আমাদের রমাদান রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমল অনুযায়ী সৌন্দর্যমণ্ডিত হচ্ছে তো? এ প্রশ্ন দুটির উত্তরের মাঝেই সম্মানিত পাঠক সফলতা খুঁজে পাবেন, ইনশাআল্লাহ!
আল্লাহ তায়ালা বলেন- রমজান মাস। এ মাস পেলেই মুমিন মুসলমানের জন্য রোজা রাখা আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে তারা যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে এবং কেউ অসুস্থ থাকলে কিংবা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করবে।
আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ তাই চান এবং যা তোমাদের জন্য কষ্টকর তা চান না। এ জন্য যে তোমাদের সংখ্যা পূর্ণ করবে এবং তোমাদের সৎপথে পরিচালিত করার কারণে তোমরা আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করবে এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারো, (সূরা বাকারা-১৮৫)।
যেভাবে আধপচা ফল সতেজ ফলমূলকে নষ্ট করে দেয় অনুরূপভাবে কর্কশ ভাষা, মিথ্যাচারিতা এবং অনুন্নত চরিত্র রমাদানের সৌন্দর্যও সমূলে ধ্বংস করে। শুধু রমাদানের শিক্ষা মানুষের গোটা জীবনকে বদলে দিতে পারে, যদি এ শিক্ষা জীবনে প্রতিফলিত করা যায় তবে জীবন হবে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় স্থানে সম্মান এবং সৌভাগ্যের। আমাদের বেশির ভাগ মানুষের কাছে রমাদান আসে এবং চলে যায় গতানুগতিক কিছু কাজের মাধ্যমে অথচ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রমাদান দিয়েছেন তাকওয়া চর্চার জন্য। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-‘যদি কেউ মিথ্যা কাজ ও মিথ্যা কথা বাদ না দেয়, তবে আল্লাহ এটাকে গুরুত্ব দিবেন না যে সে খাওয়া এবং পান করা বাদ দিয়েছে (বুখারি-১৯০৩)
হাজার মানুষের ভিড়ে কেউ যদি জনসম্মুখে আপনার নাম কোনো বিশেষ হাদিয়ার জন্য ঘোষণা করে তখন তা হয় আনন্দ ও সম্মানের মিশ্রিত অনুভূতির শামিল।
উপরে উল্লেখিত প্রতিচ্ছবি মানুষ কর্তৃক পুরস্কৃত হওয়ার অনুভূতি, আচ্ছা কেমন হবে মহান বিচার দিবসের হৃদকম্পিত ভয়ঙ্কর সে সময় রাব্বুল আলামীন যদি কোটি কোটি বান্দার মধ্য থেকে আপনাকে স্বতন্ত্রভাবে বাছাই করেন এবং সুসংবাদ দেন রাইয়্যান নামক জান্নাতের; তবে সে সুখ অনুভূতির পূর্ণতা কি পরিমাপ করা যাবে? সুবহানআল্লাহ কতো অনন্য এ অনুভূতি, কতো প্রশান্তির এ চিত্র। রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, ‘জান্নাতের একটি দরজা রয়েছে, যার নাম ‘রাইয়ান’। কেয়ামতের দিন রোজাদাররাই শুধু ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। অন্য কেউ সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। সেদিন ঘোষণা করা হবে, রোজাদাররা কোথায়? তখন তারা দাঁড়িয়ে যাবে এবং ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে।
যখন তাদের প্রবেশ শেষ হবে, তখন দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। ফলে তারা ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না (বোখারি-১৭৯৭)। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন-‘মহান আল্লাহ বলেছেন- ‘রোজা আমার জন্য এবং এর প্রতিদান আমি নিজেই দিবো। রোজাদার পানাহার ও চাহিদাকে আমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পরিত্যাগ করে থাকে, রোজা একজন রোজাদারের জন্য ঢালস্বরূপ। যে ঢাল তাকে দুনিয়াবি ফেতনা থেকে ছেঁকে রাখে, শুদ্ধ রাখে।
রোজাদারের জন্য দুটি খুশির সময় রয়েছে, একটি ইফতারের সময়, অপরটি হলো (বিচার দিবসে) আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের সময়।
রোজা শরীরের জন্য থেরাপির ন্যায়, কেননা শরীর সচল ও সতেজ রাখতে খাদ্য গ্রহণ প্রয়োজন কিন্তু এই খাবারই যদি নিয়মিত এবং পরিমিত না হয়, তাহলে শরীরে শক্তি জোগানোর পরিবর্তে রোগ সৃষ্টি হয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এ ব্যাপারে একমত যে- শরীরের অধিকাংশ রোগ সৃষ্টি হয় অস্বাভাবিক খাদ্য গ্রহণের কারণে। রাসূল সা. এ তথ্য বহু শতাব্দী আগেই বলে গেছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের শরীরে এইচডিএল (যরময-ফবহংরঃু ষরঢ়ড়ঢ়ৎড়ঃবরহ) এবং এলডিএল (ষড়-িফবহংরঃু ষরঢ়ড়ঢ়ৎড়ঃবরহ) পাওয়া যায়। এলডিএল মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে চরম ক্ষতিকারক, রোজা রাখার ফলে এলডিএল হ্রাস পেতে থাকে এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো বিভিন্ন রোগ থেকে আমাদের রক্ষা করে। রোজাদারের ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত থাকার ফলে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্বাভাবিক হয় এবং পাচনতন্ত্রের উন্নতি হয় এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ (গ্যাস, বদহজম, লিভারের রোগ, জয়েন্টে ব্যথা) কমে যায়। কিন্তু যারা অসতর্কতাবশত সাহরি ও ইফতারে অপরিমিত খাবার খেয়ে থাকেন, তা রোগ হ্রাসের পরিবর্তে বৃদ্ধি করে। সুন্নাত অনুসারে সাহরি ও ইফতারে খাদ্য গ্রহণ শরীরের পক্ষে ভালো এবং পরকালেও সম্মানিত হওয়ার মাধ্যম হবে।
রোজার এ বরকতময় মাসে খেজুর রোজাদারের জন্য একটি উৎকৃষ্ট খাবার, আর খেজুর দিয়ে ইফতার করা নবীজির সুন্নাত। গবেষণায় দেখা গেছে, খেজুরে ভিটামিন এ, বি, সি এবং ডির পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, স্টিল, ফসফরাস এবং আরো অনেক প্রয়োজনীয় খনিজ রয়েছে যা হৃদ, মস্তিষ্ক, লিভার, পেট এবং স্নায়ুকে মজবুত করে ও শরীরে প্রচুর পরিমাণে শক্তি সঞ্চার করে। খালি পেটে থাকার কারণে পেটে স্টমাকের মধ্যে টকসিন নামক এক প্রকারের গ্যাস তৈরি হয়, ফলে মুখে সৃষ্টি হয় দুর্গন্ধ।
হাদিসে কুদসিতে আছে -‘যার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ, রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ মেশকের তুলনায় আল্লাহ তায়ালার কাছে অনেক বেশি প্রিয় (বুখারি-১৮৯৪)
রমাদানে সিয়াম একটি ফরজ ইবাদাত, আল্লাহ প্রত্যেক সাবালক ও সুস্থ মুসলিম নর-নারীর ওপর রমজানের রোজা ফরজ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে- ‘হে মুমিনরা, তোমাদের ওপর রোজাকে ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যেন তোমরা আল্লাহভীরু হতে পারো’ (সূরা বাকারা:১৮৩)।
রাব্বুল ইজ্জত আমাদের রমাদানের খুশবু হৃদয়ে ধারণ করার তাওফিক দিন, আমরা যেন এ মাসে কুরআন ও হাদিসের সৌন্দর্যে নিজেদের জাহেরি ও বাতেনি সিফাত সুসজ্জিত করতে পারি- আমিন।
আরো সংবাদ
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা