২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৭ শাবান ১৪৪৬
`

ইসলামে মিসওয়াকের গুরুত্ব

-


দাঁত মানুষের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। দাঁত না থাকলে কোনো খাবারই আমরা ঠিকভাবে খেতে পারতাম না। তাই দাঁতের সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। দাঁতের পরিচর্যায় ইসলাম মিসওয়াকের বিধান দিয়েছে। নিয়মিত মিসওয়াক দাঁতের সুরক্ষা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যম। ধৈর্য মুমিনের ভূষণ। ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান। ইসলামে এমন কোনো দিক নেই আলোচনা করা হয়নি। ইসলাম মুসলমানদের আত্মিক পরিশুদ্ধির পাশাপাশি মুসলমানদের দেহ ও পোশাকের পবিত্রতারও শিক্ষা দেয়। নামাজের আগে মিসওয়াক ও অজুর নির্দেশ প্রদান করে; তাতে আত্মিক ও শারীরিক দুটোর পবিত্রতাই অর্জিত হয়। এ জন্য মিসওয়াককে আত্মিক ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়।

মহান আল্লাহ সূরা বাকারায় ইরশাদ করেন-‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তাওবাকারী ও অত্যধিক পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের ভালোবাসেন।’ মিসওয়াকের গুরুত্ব সম্পর্কে বেশির ভাগ হাদিস গ্রন্থে স্বতন্ত্র অধ্যায় আছে। মিসওয়াকের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘আমার উম্মতের ওপর যদি কষ্টকর মনে না করতাম, তাহলে তাদের প্রত্যেক সালাতের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ করতাম।’ (বুখারি-৮৮৭, মুসলিম-৫৮৯) মিসওয়াকের পুরস্কার সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘মিসওয়াক মুখের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উপায়।’ (বুখারি-৮৯৩) আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি রহ. তার কিতাবে মিসওয়াকের ২০টি উপকারিতা উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে সর্বনিম্ন উপকার দাঁতের ময়লা দূর হওয়া আর সর্বোচ্চ উপকারিতা হলো মৃত্যুর সময় কালেমা স্মরণ হওয়া। আবু দারদা রা: বলেছেন, ‘তোমরা নিজেদের জন্য মিসওয়াক করা অপরিহার্য করে নাও এবং এ ব্যাপারে উদাসীন হয়ো না। কেননা, মিসওয়াকে ২৪টি উপকার রাখা হয়েছে। যার ১০টি হলো : মিসওয়াক করলে আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট হন; নামাজের সওয়াব ৭০ গুণ বৃদ্ধি পায়; সচ্ছলতা আসে; মুখ সুঘ্রাণ হয়; দাঁতের মাড়ি শক্ত হয়; মাথাব্যথা সেরে যায়; চোয়ালের ব্যথা দূর হয়; ফেরেশতারা মোসাফাহা করেন; চেহারা উজ্জ্বল হয় ও দাঁত উজ্জ্বল হয়।
দাঁত পরিষ্কার করার নিয়ম : বিসমিল্লাহ বলে মুখের ডান দিক থেকে শুরু করা। দাঁতের প্রস্থের দিক থেকে মেসওয়াক করা। ওপর-নিচ নয়। ডান হাতের কনিষ্ঠ অঙুলি মিসওয়াক ও টুথব্রাশের নিচে রেখে আর তর্জনী, মধ্যমা, শাহাদাত ও বৃদ্ধাঙ্গুলির পেট দিয়ে ভালোভাবে ধরা।

মিসওয়াকের উত্তম সময় : ঘুম থেকে ওঠার পর মিসওয়াক করা। অজুতে কুলি করার আগে মিসওয়াক করা। নামাজ আদায়ের আগে মিসওয়াক করা। কুরআন-হাদিস পড়ার আগে মিসওয়াক করা। মানুষের সাথে দেখা-সাক্ষাতের আগে মিসওয়াক করা। কোনো বৈঠকে যাওয়ার আগে মিসওয়াক করা। ঘরে প্রবেশ করে মিসওয়াক করা। মুখে দুর্গন্ধ ছড়ালে মিসওয়াক করা। দাঁত হলুদ আবরণ বা ময়লাযুক্ত হলে মিসওয়াক করা। ক্ষুধা লাগলে মিসওয়াক করা। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে মিসওয়াক করা।
যে গাছের ডাল দিয়ে মিসওয়াক করতে হয় : পিলু বা জয়তুন গাছের কাঁচা ডাল, হাতের কনিষ্ঠ আঙুলের মতো মোটা এবং প্রথমে এক বিঘত পরিমাণ লম্বা, নরম ও কম গিরাসম্পন্ন হওয়া। একজন মুসলমান পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ১৫ বার মুখ পরিষ্কার করে। মুসলিম নামাজি ব্যক্তির মুখগহ্বর সর্বদা পরিষ্কার থাকে। মিসওয়াকের মাধ্যমে উত্তমরূপে মুখ পরিষ্কার করা হয়, এতে মুখে এমন রশ্মি তৈরি হয় যার দ্বারা কুরআন তিলাওয়াত ও ইবাদতের মধ্যে স্বাদ এবং আনন্দ সৃষ্টি হয়।

মিসওয়াকের মাধ্যমে দাঁত মজবুত হয় এবং তা দাঁতের নানা রকম রোগ প্রতিরোধ করে। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ সা: মিসওয়াকের অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রত্যেক নামাজের আগে অজুতে মিসওয়াক করা সুন্নত। অন্য সময় মিসওয়াক করা মুস্তাহাব। তিতা গাছের ডালের মিসওয়াকই উত্তম। এসব হাদিস থেকে আমরা উপলব্ধি করতে পারি, শরিয়তকে উম্মতে মুহাম্মদির জন্য সহজ করে দেয়া হয়েছে এবং রাসূল সা: আমাদের উপর এহসান করেছেন। হজরত শুরাই বিন হানি রা: থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমি হজরত আয়েশা সিদ্দিকা রা:-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূল সা: ঘরে ঢুকে প্রথম কোন কাজটি করতেন? হজরত আয়েশা সিদ্দিকা রা: জবাবে বলেন, তিনি প্রথমে মিসওয়াক করতেন। (মুসলিম) মিসওয়াক সব নবীর সুন্নাত। বর্তমান বিজ্ঞানের যুগ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও মিসওয়াকের গুরুত্ব ও উপকারিতা প্রণিধানযোগ্য। অভিজ্ঞ ডাক্তারদের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, পাকস্থলির অনেক রোগ দন্ত রোগের কারণে হয়ে থাকে। আর এ রোগ নিরাময়ের সর্বোত্তম পন্থা হলো মিসওয়াক করা। মিসওয়াক জীবাণুকে হত্যা করে, মুখ থেকে দুর্গন্ধ দূর করে। গবেষণা অনুযায়ী- মুখে এমন জীবাণুও সৃষ্টি হয় যা প্রচলিত ব্রাশ এবং পেস্ট দিয়ে দূর করা সম্ভব হয় না; বরং সেগুলোকে শুধু মিসওয়াকই রোধ করতে পারে। আরো প্রমাণিত হয়েছে, মিসওয়াক দ্বারা মস্তিষ্কের শক্তির পরিধি বাড়ে, কার্যকারিতা বাড়ে। চক্ষুসংক্রান্ত রোগের কারণগুলোর মধ্যে দাঁতের অপরিচ্ছন্নতা অন্যতম। দাঁতের ফাঁকে ঢুকে থাকা খাবারের কণার কারণে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় এবং চোখে নানা রকম রোগ দেখা দেয়। কাজেই চোখের সুস্থতাও মিসওয়াকের উপকারিতা উল্লেখযোগ্য। তাই মুসলমান ভাইবোনদের মিসওয়াকের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলা আপনার, আমার সবার ঈমানি দায়িত্ব।
লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট

 

 


আরো সংবাদ



premium cement
ইংল্যান্ডের বিদায়, আশায় আফগানিস্তান পাটজাত পণ্যে ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কের সমাধান চায় বিজেএসএ আমরা ক্ষমতায় গেলে পুঁজিবাজারকে ধারণ করব : আমীর খসরু প্রহসনের কোনো নির্বাচনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ অংশ নেয়নি : আব্দুল আজিজ হাওলাদার ১-৩ গোলে হার বাংলাদেশের ব্যাংকে কত টাকা আছে জানালেন নাহিদ ইসলাম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাংশের বিক্ষোভ আজ ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে রাখাইনে স্বীকৃতি পেতে পারে আরাকান আর্মি ভোরে পুলিশের টহল কার্যক্রম পরিদর্শন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ছাত্রদের নতুন কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা বেসরকারি শিক্ষার্থীদের ইংল্যান্ডকে বিদায় করে স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল আফগানিস্তান

সকল