১৫ নভেম্বর ২০২৪, ৩০ কার্তিক ১৪৩১, ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৬
`
ছোট্ট হাতে বড় সংসারের দায়িত্ব :

ইঁদুরের ধানে সংসারের হাল ধরার স্বপ্ন সোহেলের

ইঁদুরের ধানে সংসারের হাল ধরার স্বপ্ন সোহেলের - নয়া দিগন্ত

বয়স ১০ ছুঁই ছুঁই। নাম সোহেল রানা। তবে সবাই সোহেল বলেই ডাকে। দুরন্ত ও চঞ্চলা ওই শিশু ঘুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে সে। ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়ে পাঁচ সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী বাবার আয়ের যোগান দিতে। সোহেলের বাবা একজন কাঠ মিস্ত্রী। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে কাজ করাই তার পেশা। রোজগার হলেই জ্বলে ঘরের চুলা। তাই করোনায় দীর্ঘ কয়েক মাস স্কুল বন্ধ থাকায় প্রায়ই তাকে দেখা যায় বিভিন্ন ক্ষেত খামারে কিংবা সুপারি গাছের আগায়।

সোহেল নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের ঘুনি এলাকার আলতাফ হোসেনের ছেলে। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে। তারা সবাই স্কুলে পড়ে। সংসারের খরচ যোগাতেই হিমসিম খেতে হয় আলতাফের। তার মধ্য ছেলে-মেয়েদের স্কুলের খরচ। নিজের বলতে এক চিলতে জমিতে একটি টিনের ঘর ছাড়া কিছুই নেই। এরকম আরো পাঁচ থেকে ছয়জন শিশু আছে এলাকায়। কেউ কেউ সখের বসেও দিগন্তের শষ্যের ক্ষেত খামারে ঘুরে বেড়ায় নিজেদের চাহিদা মিটানোর কাজে।

সরেজমিনে আরো জানা যায়, ফসলের মাঠে ঝরে পড়া ও ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান সংগ্রহের আনন্দে মেতেছে হতদরিদ্র শিশুরা। প্রতি বছর ধান কাটা শেষ হতেই ঝরে পড়া ধান কুড়াতে ব্যস্ত সময় পার করে একদল শিশু-কিশোর এমনকি বৃদ্ধারাও। ধান সংগ্রহ করে কেউ সংসারের খোরাক যোগায় কেউ বা ধান বিক্রি করে শার্ট, প্যান্ট, জুতা, শীতের পোশাক কিনবে কেউ বা খাবে শীতের পিঠা।

বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ থেকে কৃষকরা ধান নিয়ে যাওয়ার পর একদল শিশু-কিশোর হাতে খুন্তি-শাবল, চালন, ব্যাগ নিয়ে খুঁজে ফিরছে ইঁদুরের গর্ত। ইঁদুরের গর্তে জমানো ধান ব্যাগে ভরে তারা। এ ছাড়া জমিতে পড়ে থাকা ধানও কুড়িয়ে ব্যাগে ভরতে দেখা গেল। এমন সময় দেখা মেলে শিশু সোহেলের। ঠিকানা নিয়ে বাড়িতে গিয়ে কথা হয় পরিবারের ও আশপাশের লোকজনদের সাথে।

অভাব-অনটনের সংসারে সুযোগ পেলেই দিক বেদিক ছুটে সোহেল। কখনো মাটি খুড়ে কচুর মুখী, কচুর লতি, ইঁদুরের গর্ত খুড়ে ধান এমনটি বিভিন্ন গাছ থেকে চুক্তি নিয়ে কাজ করে আনে নগদ টাকা অথবা সুপারি। পুরোটাই তুলে দেয় মা-বাবার হাতে।

মাঠে ধান সংগ্রহ করতে আসা ওই শিশু জানায়, ‘বিভিন্ন মাঠে ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান সংগ্রহ করি। কখনো কচুর মুখী, কখনো গাছ থেকে চুক্তিতে সুপারি পেড়ে যা পাই সব মায়ের কাছে দেই। বাবা অনেক কষ্ট করে আমাদের জন্য তাই বসে না থেকে আমি এগুলোই করি। পড়ালেখা করে বড় হয়ে মা-বাবার পাশে দাঁড়াবো।’

ঘুনি এলাকার কৃষক আঞ্জু মিয়া জানান, ‘ধান কাটার পর মাটিতে পড়ে থাকা ধান শিশু-কিশোররা সংগ্রহ করে, এতে আমরা বাধা দেই না। এছাড়া গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের শিশুরাই দল বেঁধে ধান সংগ্রহ করে। তবে তাদের সাবধান করি গর্তে বিষাক্ত সাপ থাকতে পারে বলে।’


আরো সংবাদ



premium cement
মুক্তভাবে মত প্রকাশে আমরা সংগ্রাম করে যাচ্ছি : মাহমুদুর রহমান ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বাসভবনে আবারো ড্রোন হামলা ওআইসির শীর্ষ সম্মেলনে মুসলিম ও আরব লীগ নেতারা যা বললেন নিষেধাজ্ঞা শেষেও জেলেদের জালে মা ইলিশ ব্যাংকে তারল্য সংকট : টাকা উত্তোলনে ভোগান্তিতে ৬ ব্যাংকের গ্রাহক টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা টিম সাউদির গজারিয়ায় কিশোরের হাতের কবজি কেটে নিল প্রতিপক্ষ জুমার নামাজ শেষে কাকরাইল মসজিদ ছাড়ল সাদপন্থীরা জয়পুরহাটে হত্যা মামলার ৬ ঘণ্টার মধ্যে ২ হত্যাকারী গ্রেফতার চরফ্যাশনে বয়লার মেশিন বিস্ফোরণে নিহত ১, আহত ২ গলাচিপায় চুরির অভিযোগে মারধরের ৬ দিন পর প্রতিবন্ধীর মৃত্যু

সকল