স্মরণ : ফতেহ লোহানী

আজ প্রখ্যাত অভিনেতা ও আবৃত্তিশিল্পী ফতেহ লোহানীর মৃত্যু দিবস। তার জন্ম কলকাতায় ১৯২৬ সালে। পৈতৃক নিবাস তৎকালীন বৃহত্তর পাবনায়। তিনি ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেতা, সাহিত্যিক, অনুবাদক ও আবৃত্তিকার। শিক্ষিত ও সংস্কৃতিবান এক মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। বাবা আবু লোহানী বিএ (১৮৯২-১৯২৯) ছিলেন কলকাতার বিখ্যাত ইংরেজি সাপ্তাহিক পত্রিকা দ্য মুসলমান (১৯০৬)-এর সহকারী সম্পাদক। মা বেগম ফাতেমা লোহানী ছিলেন কলকাতা করপোরেশন স্কুলের শিক্ষিকা। আট বছর বয়সে বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পর কলকাতায় শিক্ষাজীবন অতিবাহিত হয় মায়ের তত্ত্বাবধানে। কলকাতার বিশপ ক্যাথেড্রাল মিশন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, রিপন কলেজ থেকে আইএ ও বিএ পাস করেন। কিশোর বয়সেই কলকাতায় প্রখ্যাত গণশিল্পী মুকুন্দ দাসের স্বদেশী যাত্রা দেখে মুগ্ধ হয়ে অভিনয়ের প্রতি আগ্রহী হন। প্রথম অভিনয় কলকাতার বাণী থিয়েটারের মঞ্চে রামের সুমতি নাটকে কিশোর রামের ভূমিকায়। কলেজে পড়ার সময় কলকাতার আলোক তীর্থ শৌখিন নাট্যসংস্থায় যোগ দেন। তৎকালীন প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার বিমল রায়ের নির্মীয়মাণ হিন্দি ছবি হামরাহির একটি ছোট্ট ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য মনোনীত হয়ে অভিনেতা কিরণ কুমার নামে ১৯৪৬-এ প্রথম চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রবেশ করেছিলেন। হিমাদ্রি চৌধুরী নামে ওবায়েদ-উল হক পরিচালিত দুঃখে যাঁদের জীবন গড়া (১৯৪৬) ছবিতে অভিনয় করেন। ১৯৪৭-এ ভারত বিভাগের পর ঢাকায় আগমন। ১৯৫৮ সালে এফডিসি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পূর্ব বাংলার চলচ্চিত্র শিল্পে যুক্ত হন। নির্মিত প্রথম ছবি আকাশ আর মাটি। মুক্তিপ্রাপ্ত অপরাপর নির্মিত ছবি : আসিয়া (১৯৬০) ও সাতরঙ (উর্দু ১৯৬৫)। বছরের সেরা ছবি হিসেবে ১৯৬১-তে আসিয়ার প্রেসিডেন্ট পুরস্কার লাভ। প্রায় ২৫টি ছবিতে এবং অসংখ্য নাটকে অভিনয়। দক্ষ আবৃত্তিকার হিসেবেও প্রশংসিত হয়েছেন। গল্পকার ও অনুবাদক হিসেবে ছিলেন খ্যাতিমান। মাসিক মোহাম্মদী, সওগাতসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত তার মানুষ, ক্যাম্বিস ইত্যাদি গল্প উল্লেখযোগ্য। অনূদিত গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নোবেল বিজয়ী আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ওল্ডম্যান অ্যান্ড দ্য সির বাংলা অনুবাদ সমুদ্র সম্ভোগ। ঢাকা ইডেন কলেজের অধ্যাপিকা উর্দুভাষী রাজিয়া রহমতের (পৈতৃক নিবাস উত্তর ভারতের ফরজবাদ) সাথে তার বিয়ে (ডিসেম্বর ১৯৬৩) হয়। ১৯৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়েও ঢাকা বেতারের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। নির্মীয়মাণ ছায়াছবি কুয়াশার শুটিং উপলক্ষে কাপ্তাইয়ে থাকার সময় ১৯৭৫ সালের ১২ এপ্রিল তিনি মারা যান।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.