ডাকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা মার্চের মাঝামাঝিতে : ভিসি
- ঢাবি প্রতিনিধি
- ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০০:০০
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান বলেছেন, আগামী মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ডাকসুর সংবিধান চূড়ান্ত করে নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দেয়া হবে। নির্বাচন কমিশন হল এবং বিভাগগুলোর সহায়তায় ভোটার তালিকা ঠিক করবে। সেই সাথে রোডম্যাপও ঘোষণা করা হবে।
গতকাল ঢাবির আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে ‘সম্মিলিত ডাকসু আন্দোলন’ প্ল্যাটফর্মের সাথে কথা বলার সময় তিনি এ কথা জানান।
ভিসি বলেন, বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে নতুন কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, কারণ অনেক কিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। ডাকসু নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেট সদস্যদের নিয়ে আপত্তি ছিল, তবে তা পুনর্গঠিত হয়েছে, বুধবার প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় ২৯১টি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হবে। ডাকসু বিষয়ে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তারা দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। গত সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সব কমিটির কাজের অগ্রগতি চাওয়া হয়েছে, তারা আজ (বুধবার) সেগুলো জানাবেন।
ডাকসুর আচরণবিধি সংক্রান্ত কমিটির কাজের অগ্রগতি নিয়ে ভিসি বলেন, প্রাথমিক খসড়া তৈরি হয়ে গেছে এবং ৪ মার্চ এটি শিক্ষার্থী ও অংশীজনদের অনলাইনে দেখানো হবে। এরপর সিন্ডিকেটে অনুমোদন পেলে এটি চূড়ান্ত হবে। প্রত্যেকটি কমিটির কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে সিন্ডিকেটে পাঠানো হবে এবং আগামী মাসে পরপর তিনটি সিন্ডিকেট সভার আয়োজন করা হবে। দ্বিতীয় সিন্ডিকেটে ডাকসুর সব কার্যক্রম চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হবে।
গঠনতন্ত্র সংস্কার কমিটির সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ জানান, শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি আগামীকালই চূড়ান্ত করে শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া জানার জন্য অনলাইনে দেয়া হবে।
পরামর্শবিষয়ক কমিটির অগ্রগতি সম্পর্কে প্রোভিসি ড. সাইমা হক বিদিশা বলেন, কমিটি ছাত্রসংগঠনগুলোর সাথে ইতোমধ্যে বসেছে। শিগগিরই প্রভোস্ট, ডিন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের সাথে আলোচনা করা হবে। আজই গুগল ফরম তৈরি করে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ সংগ্রহ শুরু করা হবে।
এ দিকে গতকাল দুপুরে ‘সম্মিলিত ডাকসু আন্দোলন’ ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ভিসি বরাবর দাবির পক্ষে এক হাজারের বেশি স্বাক্ষর জমা দেন।
সম্মিলিত ডাকসু আন্দোলন প্ল্যাটফর্মের নেতৃস্থানীয় সদস্য জামালুদ্দিন খালেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে এবং সহিংস রাজনীতির ধারা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। যারা রাজনীতি করেন না, তাদের জন্য ক্যাম্পাসে কোনো অভিভাবক নেই। প্রশাসন নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না, কারণ তা রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। প্রশাসন সংস্কারের কথা বললেও সময় ক্ষেপণ করছে এবং সাত মাস পরও আমরা বুঝতে পারছি না, তারা কী সংস্কার করছে।