বরগুনার বেতাগীতে দু’গ্রুপের সংঘর্ষ : পুলিশসহ আহত ৩০
- বেতাগী (বরগুনা) সংবাদদাতা
- ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:২৯

বরগুনা বেতাগীতে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পুরস্কার বিতরণের পরে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে বেতাগী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান মনির।
আহতদের বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
এ ঘটনায় পৌর শহরে অতিরিক্ত পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও নৌবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সংঘর্ষের বিষয়টি নিয়ে বিএনপির একগ্রুপ অন্যগ্রুপকে দায়ী করছে এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বেতাগী গালর্স স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণ শেষে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো: হুমায়ুন কবির মল্লিক ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো: সোয়েব কবিরের মধ্যে কথা কাটাকাটি এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রুপ নেয়। মুর্হূতের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র রাম দা, বগি দা, চ্যানা, লোহার রড, পাইপ, লাঠিসোটাসহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আধাঘন্টা ধরে এ সংঘর্ষ চলে।
সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মল্লিক, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোয়েব কবির, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: জামাল খানসহ দু’গ্রুপের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার সময় থানা পুলিশের এসআই এমাদুল, এএসআই জাহিদুল ও একজন কনেস্টেবল আহত হয়েছেন।
আহত উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল খান বলেন, ‘আমাদের যুবদলের নেতাকর্মীদের অতর্কিতভাবে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোয়েব কবির সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা হামলা করেছে। আমরা এই হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এ বিষয়ে বেতাগী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো: হুমায়ুন কবির মল্লিক বলেন, ‘গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান শেষে বাড়িতে ফেরার পথে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান কবির ও তার ছেলে সোয়েব কবির সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর অর্তকিতভাবে হামলা করেন। আমি নিজেও গুরুতর আহত হয়েছি এবং আমার দলের ১৫-২০ জন নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত করা হয়েছে। হামলার বিষয়টি বিএনপির উচ্চ পর্যায়ে জানানো হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো: শাহজাহান কবির বলেন, ‘উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মল্লিক ২০১৪ সালে বিএনপিতে ঢুকছে। দলে ঢুকে টাকার বিনিময়ে একটি কমিটি কিনে আনছে এবং বিভিন্ন এলাকায় তার বাহিনী দ্বারা লুটপাট করেছে, বাড়িঘর ভাংচুর করছে। গত ৫ আগস্টের পর তার সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা ভাংচুর ও লুটপাট করছে। আজকে হুমায়ুন মল্লিক আমার ছেলে সোয়েব কবিরের মাথায় আঘাত করেছে এবং গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। দলের হাই কমান্ডের কাছে এর বিচার দাবি করছি।
এ বিষয় বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষের খবর পেয়ে সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। বর্তমানে পৌর শহরে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
আরো সংবাদ
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা