বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা বাজার সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৫১ লক্ষাধিক জাল টাকার নোট, জাল টাকার নোট প্রস্তুত ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও মালামাল এবং জাল টাকা সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশাসহ আজিজুর রহমান ও নাজমুল নামে জাল টাকা প্রস্তুতকারী চক্রের ২ সদস্যকে আটক করেছে।
বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) গত এক সপ্তাহ পূর্বে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পারে যে, টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা বাজার সংলগ্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশপাশের কোনো একটি স্থানে আসন্ন ঈদ উল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির হাটে বিপণনের জন্য এবং বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরবরাহের জন্য বিপুল পরিমাণ জাল টাকার নোট প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রস্তুত করা জাল নোট দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন বিগত এক সপ্তাহ ধরে জাদিমুরা বাজার সংলগ্ন লেদা ও দমদমিয়া এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে। একইসাথে প্রযুক্তিগত সার্ভেল্যান্সের মাধ্যমে জাল নোট প্রস্তুত ও সরবরাহকারী একটি চক্রকে শনাক্ত করে। প্রাপ্ত তথ্য পর্যবেক্ষণ ও যাচাই বাছাই শেষে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের নির্দেশক্রমে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
পরিকল্পনা মোতাবেক আজ রোববার (২৪ মে) সকাল ৯টা থেকে বিজিবির একটি বিশেষ গোয়েন্দা দল জাদিমুরা বাজার, মুচনী বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। পরবর্তীকালে জাল টাকা প্রস্তুতকারী কারখানায় কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির আনাগোনা পরিলক্ষিত হয়। আনুমানিক দুপুর ২টার দিকে ২ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে একটি অটোরিকশাযোগে জাল নোট প্রস্তুতকারী কারখানায় আসতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর তারা ওই স্থান ত্যাগ করে হ্নীলার দিকে অগ্রসর হতে থাকে।
এ সময় তাদের আটক করার লক্ষ্যে মুচনী বাজার এলাকায় একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। মুচনী বাজারে বিজিবি সদস্যদের তৎপরতা দেখে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে দমদমিয়ার দিকে ঘুরে পালানোর চেষ্টা করে। পরে বিজিবির চৌকস আভিযানিক দল তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ধাওয়া করে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে তাদের জাল টাকা তৈরির কারখানার অবস্থান নিশ্চিত করা হয় এবং সেখানে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে ৫১,৩৪,১০০/- টাকা মূল্যমানের জাল টাকার নোট, ১টি ল্যাপটপ, ১টি ডেস্কটপ কম্পিউটার, ২টি কালার প্রিন্টার, বিপুল পরিমাণ জাল নোট তৈরির কাঁচামাল, জাল টাকা কাটার মেশিন জব্দ করা হয়। এ সময় জাল টাকা পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ১টি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।
আটক আজিজুর আহম্মদ ২৬নং জাদিমুরা এফডিএমএন ক্যাম্প, ব্লক- ডি/৩ এর বাসিন্দা আবুল কালামের ছেলে এবং নাজমুল (২৭) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার তেরকান্দা গ্রামের আলা উদ্দীনের ছেলে। জব্দ মালামালসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ ব্যাপারে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে: কর্নেল মো: হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিজিবির আভিযানিক দলের তাৎক্ষণিক, দক্ষ ও কৌশলগত পদক্ষেপের ফলে জাল টাকার নোট প্রস্তুতকারী চক্রের অপতৎপরতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে, যা টেকনাফ ব্যাটালিয়নের পেশাদারিত্ব, তৎপরতা এবং কার্যকর গোয়েন্দা সক্ষমতার সুস্পষ্ট প্রতিফলন।



