যুক্তরাষ্ট্রের ফুল-ফ্রি স্কলারশিপ পেলেন জমজ ২ ভাই

তারা দু’জনই যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপসহ পিএইচডি করার গৌরব অর্জন করেছেন।

Location :

Barishal
জমজ দুই ভাই
জমজ দুই ভাই |নয়া দিগন্ত

ববি প্রতিনিধি
পড়েছেন একই স্কুল ও একই কলেজে। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হয়েছিলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগে। সেখানেও বজায় রেখেছেন মেধার স্বাক্ষর। দু’জনই হয়েছেন নিজ নিজ ব্যাচের টপার। এবার উচ্চশিক্ষার পরবর্তী ধাপে অংশ নিতে দুই সহোদর পাড়ি জমাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে।

অনন্য এই সাফল্যের গল্পটি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দুই মেধাবী ভাই মো: আতিকুর রহমান ও মো: আশিকুর রহমানের। তারা দু’জনই যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপসহ পিএইচডি করার গৌরব অর্জন করেছেন।

মো: আতিকুর রহমান ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য যাচ্ছেন বিশ্বখ্যাত ‘ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডা’ তে।

মো: আশিকুর রহমান তিনি ফুল-ফ্রি স্কলারশিপে পিএইচডি করতে যাচ্ছেন আমেরিকার অন্যতম সেরা ‘অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি’ তে।

পারিবারিকভাবে তারা ভাই হলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই ভিন্ন সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। মো: আতিকুর রহমান ছিলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের ছাত্র এবং মো: আশিকুর রহমান ছিলেন ২০১৮-১৯ সেশনের। দুই ভিন্ন ব্যাচে পড়াশোনা করলেও অর্জনের জায়গায় দুই ভাই-ই এক। দু’জনই নিজ নিজ ব্যাচে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ‘ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। বর্তমানে আতিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত আছেন।

তাদের এই সাফল্যের পথটি সহজ ছিল না। নানা সীমাবদ্ধতা, চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, কঠোর পরিশ্রম এবং গবেষণার প্রতি তীব্র আগ্রহের কারণেই আজ তারা এই অবস্থানে পৌঁছেছেন।

নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দু’জনেরই প্রথম থেকে ফিজিক্সের প্রতি আলাদা টান ছিল। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলেও ফিজিক্সে পড়ার জন্য বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। উচ্চশিক্ষার জন্য আমি মোট ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছিলাম, যার মধ্যে আটটি থেকেই ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপের অফার পাই। র‍্যাংকিং ভালো হওয়ায় আমি ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডাকেই বেছে নিয়েছি।’

অনুভূতি শেয়ার করে আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমি প্রথমে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এগ্রিকালচারে চান্স পেয়েছিলাম, কিন্তু ফিজিক্সের প্রতি ভালোবাসার কারণে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসি। আমি মোট আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছিলাম। এর মধ্যে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি বেছে নেওয়ার কারণ, এখানকার প্রজেক্টগুলো আমার রিসার্চ ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে দারুণভাবে মিলে যায়। আল্লাহর রহমতে আমরা দুই ভাই একসাথে এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে একই দেশে স্কলারশিপ পেয়েছি, এই অনুভূতি সত্যিই অসাধারণ।’

আশিক ও আতিকের এই সাফল্যে আনন্দিত তাদের সহপাঠীরাও। তাদের সহপাঠী তানজিল হোসাইন সুমন বলেন, ‘আশিক এবং আতিক অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র স্বভাবের। আজ তাদের এই সাফল্যের পদচিহ্ন শুধু একটি অর্জনের গল্প নয়, বরং আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য স্বপ্ন দেখার সাহস এবং এগিয়ে যাওয়ার দারুণ এক অনুপ্রেরণা।’

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব খোরশেদ আলম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘ইউনিভার্সিটি অব বরিশাল’ থেকে শিক্ষার্থী গিয়ে ‘ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডা’ বা ‘অ্যারোজনা স্টেট ইউনিভার্সিট ‘-এর মতো বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছে—এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের, আবেগের এবং গভীর তৃপ্তির মুহূর্ত। এত প্রতিকূলতার মাঝেও শিক্ষার্থীদের সফলতার সঙ্গী হতে পেরে আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। ওদের সফলতা কামনা করি। দেশের প্রতি দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থেকো।’