অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড

সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক ২

অভিযান চলাকালীন কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে উক্ত ডাকাত দল পালানোর চেষ্টা করলে আভিযানিক দল ধাওয়া করে একটি বিদেশি একনলা বন্দুক, দুইটি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ করিম শরীফ বাহিনীর দুইজন সক্রিয় সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়।

সেকান্দার আলী, মোংলা (বাগেরহাট)

Location :

Bagerhat
আটক বনদস্যু ও উদ্ধারকৃত জিম্মিরা
আটক বনদস্যু ও উদ্ধারকৃত জিম্মিরা |নয়া দিগন্ত

সুন্দরবনের কোস্টগার্ডের অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দুই ডাকাত মো: রবিউল শেখ (৩০) ও রাজন শরীফকে (২০) আটক হয়েছে। এ সময় জিম্মি থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্টকার্ড।

আজ রোববার (১৭ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেন কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন।

তিনি জানান, সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দু’টি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের ধারাবাহিক সফলতা হিসেবে ষষ্ঠ বারের মতো ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর দুইজন সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করা হয়।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ থানাধীন সুন্দরবনের ঢাংমারী খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আজ রোববার ভোরে কোস্টগার্ড বেইস মোংলাকর্তৃক উক্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালীন কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে উক্ত ডাকাত দল পালানোর চেষ্টা করলে আভিযানিক দল ধাওয়া করে একটি বিদেশি একনলা বন্দুক, দুইটি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ করিম শরীফ বাহিনীর দুইজন সক্রিয় সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় আটককৃত ডাকাতদের কাছে জিম্মি থাকা চারজন জেলেকে উদ্ধার করা হয়।

আটককৃত ডাকাত রবিউল শেখ বাগেরহাট জেলার রামপাল থানা ও রাজন শরীফ বাগেরহাট জেলার মোরলগঞ্জ থানার বাসিন্দা। রাজন শরীফ-করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। উল্লেখ্য, রাজন শরীফ- এর বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে।

জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটককৃত ডাকাতদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে ডাকাত ও তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কোস্টগার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।