মির্জাগঞ্জে বৃষ্টিতে মুগডালের ক্ষতি, কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারে মুগডালের বীজ বপনের সময়ে ধরে এ মাসের মধ্যে বৃষ্টি না হওয়ায় বীজের চারা গজাতে বিলম্ব হয়েছে এবং বীজগুলো বিএডিসি থেকে সরকারিভাবে ক্রয় করা। কৃষকদের কথা শুনে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেকে বিষয়টি অবিহিত করা হয়েছে।

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

Location :

Mirzaganj
মির্জাগঞ্জে বৃষ্টিতে মুগডালের ক্ষতি, কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ
মির্জাগঞ্জে বৃষ্টিতে মুগডালের ক্ষতি, কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ |নয়া দিগন্ত

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে গত দু’দিনের বৃষ্টিতে মুগডালসহ রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জমে থাকা পানিতে মাঠেই পচে যাচ্ছে কৃষকের ফসল। বাধ্য হয়ে নিচুঁ জমিতে জমে থাকা পানিতে নেমে কৃষকরা মুগডাল এবং বাদাম তুলছেন। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বহু কৃষক। বৃষ্টির পানিতে বেশি ক্ষতি হয়েছে মুগডালের। অবশিষ্ট ফসলের ক্ষেতের বেশির ভাগই অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।

তবে উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছেন, বৃষ্টিতে মাত্র মুগডলসহ ফসলের ১০ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে, যাতে তারা প্রণোদনা পান। তবে গত অর্থ বছরে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের বিনামূল্যে দেয়া মুগডালের বীজের মান খারাপ থাকায় অনেক কৃষক এবারে ডালের ফলন হয়নি।

তবে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারে মুগডালের বীজ বপনের সময়ে ধরে এ মাসের মধ্যে বৃষ্টি না হওয়ায় বীজের চারা গজাতে বিলম্ব হয়েছে এবং বীজগুলো বিএডিসি থেকে সরকারিভাবে ক্রয় করা। কৃষকদের কথা শুনে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেকে বিষয়টি অবিহিত করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, উপজেলায় এবারে মুগডাল ৫ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে, বোরো ধান ১৫২ হেক্টর, মিষ্টি আলু ১২৮ হেক্টর, ভূট্টা ৩৫ হেক্টর, শীতকালীন সবজি ৫৬৭ হেক্টর,তরমুজ ২৫০ হেক্টর,সরিষা ৩২.৫ হেক্টর, চিনাবাদাম ১২০হেক্টর, মরিচ ২৯৫ হেক্টর, খেসারি ২২০০ হেক্টর ও সূর্যমুখী ৪০ হেক্টর জমিতে রবি ফসলের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে খেসারী ডাল অনেক আগেই ঘরে তুলে ফেলেছেন কৃষকরা।

আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামের মুগডাল চাষী মো: হাফেজ জানান, এবারে ১ একরও বেশি জমিতে মুগডাল চাষ করেছি। ক্ষেতে ডালের ফলনও ভালো ছিলো। বৃষ্টিতে সব শেষ করে দিয়েছে। এবারে একমুঠো ডাল আর ঘরে তুলতে পারবো না।

চরখালী গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মো: নান্নু জানান, এবারে ১০০ শতাংশ জমিতে ৫ হাজার টাকা খরচ করে মুগডলের চাষ করেছি। মাত্র একবার ক্ষেত থেকে ডাল তুলতে পেরেছি। এখন বৃষ্টিতে পানি জমে যাওযায় আর ডাল তোলা আর সম্ভব হবে না। কারণ জমে থাকা পানিতে গাছ হেলে পরবে ও বিবর্ন হয়ে যাবে।

পশ্চিম সুবিদখালী গ্রামের মো: হারুন সরদার জানান, এক একর জমিতে রোরো চাষ করেছি। ফলনও বেশ ভালো হয়। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ধান মাটিতে পড়ে গেছে। জমে থাকা পানিতে ধানের ক্ষতি হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, উপজেলায় এবারে ৫ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে মুগডালের চাষসহ প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে রবি ফসলের আবাদ হয়েছে। তবে উপজেলায় মুগডালের চাষ বেশি হয়ে থাকে। গত দু’দিনের বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকায় ১০ শতাংশ ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়েছে এবং ক্ষেতের জমে থাকা পানি নেমে যাচ্ছে। পানি শুকিয়ে গেলে কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে পারবে।