নরসিংদীর শিবপুর থেকে চুরি হওয়ার দুই দিন পর শিশু উম্মে হানিকে (৩) উদ্ধার করেছে শিবপুর মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৭ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে হবিগঞ্জ জেলার মাধপুর থানার সাহেব বাজার গেট এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া শিশুটি শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের কামরাব নোয়ারা গ্রামের ইব্রাহিম মোল্লার মেয়ে। তারা শিবপুর কলেজপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
জানা গেছে, শিশুটিকে চার হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
এ ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানার নতুন বাজার বাগবাড়ী গ্রামের মরহুম সিদ্দিক মিয়ার ছেলে নিজাম উদ্দিন (৪২) ও তার স্ত্রী ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট থানার উটি গ্রামের মরম আলীর মেয়ে শরিফা খাতুনকে (২৯) গ্রেফতার করা হয়েছে।
উম্মে হানির মা শাকিনা আক্তার বলেন, ‘একই বাসায় ভাড়া থাকার সুবাধে পরিচয় হয় শরিফা বেগমের সাথে। শরিফা বেগমের বাড়ি সিলেটে, তার স্বামী ধানুয়ায় একটি রাইস মিলে কাজ করেন। ১৫ মে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে আমার মেয়েকে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে শরিফা খাতুন পালিয়ে যান। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে আমার মেয়েকে না পেয়ে সন্ধ্যায় থানায় অভিযোগ করি।’
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই ঘটনায় শিশুটির মা বাদি হয়ে শরীফার নামে থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বিভিন্ন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় শরিফা খাতুনকে খোঁজার চেষ্টা চলে। সিলেটের হবিগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তারা গ্রেফতার এড়াতে ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করেন। পরে ১৭ মে রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হবিগঞ্জ জেলার মাধপুর থানার সাহেব বাজার গেট এলাকা থেকে শিবপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়ার নির্দেশনায়, এসআই অনুপ নাগ ও র্যাবের সহযোগিতায় শিশুটিকে উদ্ধার এবং শরীফা খাতুন ও তার স্বামী নাজিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। শরিফা খাতুন শিশু উম্মে হানিকে চার হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেন।
শিবপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: কোহিনুর মিয়া বলেন, ‘থানায় অভিযোগ পাওয়ার পর থানার এসআই অনুপ নাগ, হাসান ও র্যাবের সহযোগিতায় অভিযুক্ত শরীফা খাতুনকে মাধবপুর থেকে আটক করার পর তার তথ্য মতে উম্মে হানিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়।



