বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবু তাহের মুহাম্মদ মাসুম বলেছেন, ‘দেশের জনগণ যে রায় দিয়েছে তা বাস্তবায়ন করা সরকারের নৈতিক ও গণতান্ত্রিক দায়িত্ব। জনগণের মতামত ও গণভোটের রায় উপেক্ষা করা হলে মানুষ মনে করবে সরকার অগণতান্ত্রিক পথে হাঁটছে। জনগণ দেশের মৌলিক সমস্যা সমাধান, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ দেখতে চায়।’
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের জোন-১ এর উদ্যোগে দেওয়ানবাজারস্থ সাফা আর্কেড কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত ইউনিট দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের চেতনা ছিল জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন। কিন্তু সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিক না হয়ে ভিন্ন খাতে মনোযোগ দিচ্ছে। জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা না করলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরো বৃদ্ধি পাবে।’
মাওলানা মাসুম বলেন, ‘দেশে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে আল্লাহর বিধানভিত্তিক ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জামায়াতে ইসলামী সংসদের ভেতরে গঠনমূলক আলোচনা এবং সংসদের বাইরে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার আদায়ে কাজ করে যাবে। একইসাথে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আদর্শিক, সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে।’
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংবিধান সংস্কার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তৃণমূল পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে গণমানুষের সংগঠনে পরিণত করতে ইউনিট দায়িত্বশীলদের যোগ্যতা, সততা ও সাংগঠনিক দক্ষতার সাথে কাজ করতে হবে।’
তিনি মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম আরো জোরদার করার আহ্বান জানান।
মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সংগঠনের দাওয়াতী কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে আরো বিস্তৃত করতে হবে। তিনি প্রত্যেকটি মহল্লা ও অলিতে গলিতে দাওয়াতী ইউনিট গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।’
একই সাথে তিনি আরো বলেন, ‘একটি আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে দ্বীন কায়েমের পথে সম্পৃক্ত করা অপরিহার্য।’
তিনি এ লক্ষ্যে ইউনিট দায়িত্বশীলদের আন্তরিকতা, দক্ষতা ও সময়োপযোগী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চসিক মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, ডা: একেএম ফজলুল হক, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ও কোতোয়ালি থানা আমির আমির হোছাইন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে দারসুল কুরআন পেশ করেন প্রফেসর ড. শফিউল আলম ভুঁইয়া। সমাবেশে মহানগরীর বিভিন্ন ইউনিটের দায়িত্বশীল ও নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



