কাপ্তাইয়ে চার স্লুইস গেট নির্মাণ ৩ বছরেও হয়নি
- শান্তি রঞ্জন চাকমা রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাই (চট্টগ্রাম)
- ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০০:০০
কাপ্তাই উপজেলায় ১০ কিলোমিটার এলাকার অনাবাদি কৃষিজমি চাষাবাদের আওতায় আনার লক্ষ্যে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে বারঘোনিয়া খাল সম্প্রসারণ, পানি াশন ও সংরক্ষণ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তিন বছর আগে কাজ শুরু করা হলেও প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হচ্ছে না। ঠিকাদার প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যাদেশ না মানায় এলাকার কৃষকরা এর সুফল পাচ্ছেন না। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে খাল খনন করা হয়নি এবং খালের ওপর চারটি পানি াশন ও সংরক্ষণ (স্লুইসগেট) প্রকল্পে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও গাফিলতির কারণে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না।
জানা যায়, কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের কর্ণফুলী নদী থেকে যৌথ খামার পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় এক হাজার ৪৮ জন কৃষকের ২৭৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের সুবিধার্থে বারঘোনিয়া খালের ওপর চারটি স্লুইসগেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। গত ২০২২ সালের ১ মার্চ টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর তত্ত্বাবধানে এ প্রকল্পটি প্রায় আড়াই কোটি ব্যয় বরাদ্দ দেয়া হয়। ‘মেসার্স ইউনুছ অ্যান্ড ব্রাদার্স’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কার্যাদেশ পায়।
স্লুইসগেট পরিচালনার জন্য স্থানীয় ভুক্তভোগীদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত অধিকাংশ সদস্য স্থানীয় কৃষকের অস্তিত্ব নেই বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
বারঘোনিয়া গ্রামের মো: শামীম বলেন, অনাবাদি জমি চাষাবাদের আওতায় আনতে পানি নিষ্কাশন ও সংরক্ষণ প্রকল্পে চারটি স্লুইসগেট নির্মাণের ওয়ার্ক অর্ডার উল্লেখ থাকলেও মাত্র দুটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছে। তংচংগ্যা গ্রামের রাজ্য তংচংগ্যা ও প্রিয়ময় তংচংগ্যা বলেন, বারঘোনিয়া খালের ওপর ইকোপার্কের মুখে একটি স্লুইসগেট ও এক কিলো পরে তংচংগ্যা পাড়ায় আরেকটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছে। ইকোপার্কের মুখে স্লুইসগেটে এখনো পানি আটকানো হয়নি এবং তংচংগ্যা পাড়ায় স্লুইসগেটে পানি ধরে রাখায় প্রায় আধাকিলো এলাকায় আট-দশ জন কৃষক কৃষি জমিতে পানি সেচ দিতে পারছেন। প্রায় ছয়-সাত কিলো এলাকায় খালে পানি না থাকায় শত শত একর কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে আছে।
স্লুইসগেট পরিচালনা কমিটির সদস্য মৃনাল তংচংগ্যা গোরাঙ্গ বলেন, বিগত সরকারের সময়ে চন্দ্রঘোনা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পান। সিসি ব্লক ও স্লুইসগেট নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে প্রকল্পের কাজ করা হয়েছিল। সরকার পতনের পরও ঠিকাদার এখনো নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যাদেশের মেয়াদ অতিক্রম হলেও দুটি স্লুইস গেটের নির্মাণ কাজ এখনো শুরু হয়নি। দেড় কিলো খাল খনন করা হলেও বাকি ছয়-সাত কিলো এলাকায় খাল খনন করার কোনো লক্ষণ নেই।
প্রকল্পের অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে প্রকল্পের সাব কন্ট্রাক্টর কামরুল ইসলাম বলেন, খালের ওপর দুটি স্লুইসগেট করা হয়েছে এবং সিসি ব্লক নির্মাণ ও স্থাপনের কাজ চলছে। প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীদের অফিস ভবন সম্পন্ন হলেও আসবাবপত্র এখনো দিতে পারিনি।
কাপ্তাই উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম চৌধুরী ও অফিস কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন ইসলাম বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরে বারঘোনিয়া খালে পানি নিষ্কাশন ও সংরক্ষণ (স্লুইসগেট) নির্মাণ প্রকল্প কার্যাদেশ মোতাবেক সম্পন্ন করা হয়নি। অনিয়মের বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আরো সংবাদ
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা