হারিয়ে যেতে পারে চট্টগ্রামের আলুর জাত দোহাজারী
- এস এম রহমান পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)
- ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০০:০০
চট্টগ্রামের একমাত্র দেশী গোল আলুর জাত দোহাজারীর উৎপাদন নিয়ে হতাশায় পড়েছে চাষিরা। গেল কয়েক বছর ধরে দোহাজারী জাতের গোলআলুর উৎপাদন নিয়ে উদ্বিগ্ন চাষিরা। আলুর উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না চাষিরা।
গত অর্ধশত বছর চট্টগ্রামের চাষিরা দোহাজারী জাত গোল আলু চাষ করে স্বাবলম্বি হয়ে এলেও গত কয়েক বছর ধরে আলুর ফলন কমে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে একই জমিতে বারবার একই জাত চাষ করার পাশাপাশি আলুর বীজ সংরক্ষণ প্রক্রিয়া সঠিক পদ্ধতিতে না হওয়ায় বর্তমানে দোহাজারী জাতের গোলআলু রোপণের পরে নানা ধরনের রোগবালাই লেগে থাকে। বিশেষ করে অনেক দিনের পুরনো হওয়ার কারণে আলু রোপণের পর থেকে রোগ বহনকারী জাব, সাদা মাছি, থ্রিপস বাসা বাধে। এ ছাড়া আর্লি ব্রাইট বা লেট ব্রাইট জাতীয় রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে দোহাজারী জাতের আলু রোপণ করলেও উৎপাদন এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে।
আর তাই রোগমুক্ত উন্নতজাত উদ্ভাবন করা না গেলে একসময় হারিয়ে যাবে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য দোহাজারী জাতের আলু।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া শঙ্খনীর তীরবর্তী খাগরিয়ার চাষি মফিজুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, চট্টগ্রামের একামাত্র দেশী গোলআলুর জাতের দোহাজারী জাতের আলু স্বাদে অতুলনীয়। বর্তমানে বিভিন্ন জাতের আলুর উৎপাদন ভালো হলেও এসব আলু চট্টগ্রামবাসীর কাছে তেমন প্রিয় না। আরো বলেন দোহাজারী জাতের আলুর উৎপাদন এখন কমে যাচ্ছে। রোগবালাই লেগেই রয়েছে। এতে উৎপাদন খরচও উঠছে না। তিনি বলেন, বাপ-দাদারা এই জাতের আলু চাষ করে গেছেন। তিনি নিজে প্রায় ৩০-৩৫ বছর ধরে এ জাতের বিশেষ করে দোহাজারী জাতের আলু চাষ করে আসছেন চলতি মৌসুমেও তিনি ১২ কানিতে দোহাজারী আলুর জাত রোপণ করেছেন। আগামী মার্চের প্রথম দিকে আলু উত্তোলন করবেন। তিনি বলেন, বর্তমানে আলুর উৎপাদন কমে যাওয়ায় তার মতো অনেক চাষিই এখন আলুর উৎপাদন নিয়ে হতাশায় পড়েছেন। চাষি মফিজ জানান, একসময় প্রতি কানি জমিতে আলু উৎপাদন হয়েছে ১২০, থেকে ৯০, ৮৫ মণ আর এখন হচ্ছে মাত্র ২০-৩০ ও ৪০-৫০ মণ।
চলতি মৌসুমে চট্টগ্রামের দোহাজারী জাতের আলুসহ তিন হাজার ৬৮৩ হেক্টর জমিতে গোলআলু রোপণ করেছেন চাষিরা। এর মধ্যে দোহাজারী জাতের আলুই রয়েছে ৮০ ভাগ।
গত বৃহস্পতিবার চন্দনাইশ উপজেলার কৃষি অফিসার আজাদ হোসেন বলেন, ৪৬৫ হেক্টর জমিতে আলু রোপণ করা হয়েছে এর মধ্যে দোহাজারী জাতের রয়েছে ৩৫০ হেক্টর কার্ডিনাল ৩০ হেক্টর ও ডায়মন্ড জাতের (হাইব্রিড) রয়েছে ৮৫ হেক্টর।
সাতকানিয়া কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন, উপজেলায় এবার ৫২ হেক্টর জমিতে গোলআলুর চাষ হয়েছে। এর মধ্যে দোহাজারী জাতের রয়েছে ৪৬০ হেক্টর, ডায়মন্ড ৫০ হেক্টর ও কার্ডিনাল রয়েছে ১০ হেক্টর।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর চট্টগ্রামের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবদুস সোবহান বলেন, দোহাজারী জাতটি চট্টগ্রামের অন্যতম একটি অনেক পুরানো জাতের। বর্তমানে বিভিন্ন কারণে এর উৎপাদন কমে আসছে। ইতোমধ্যে এ জাতের উন্নত উফশী জাত উদ্ভাবনের কাজ করছেন কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট।
কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামের পাহারতলীর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মনিরুজ্জামানের মোইবাইল ফোনে কয়েকবার চেষ্টা করেও তার কোনো মতামত জানা যায়নি।
আরো সংবাদ
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা