মেলেনি বয়স্ক ভাতা, নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই
- শেখ সাবীর আলী ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)
- ০৯ নভেম্বর ২০২৪, ০২:০৫
আট বছর আগে সাদা শাড়ি গায়ে ওঠে তার। ভেবেছিলেন ছেলে-মেয়েরা তার দায়িত্ব নেবে। কিন্তু তারাও বৃদ্ধ বিধবা মাকে নিজেদের সংসারে জায়গা দেয়নি। সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো সাহায্য মেলেনি তার। স্বামীর মৃত্যুর পর উপায়ন্তর না পেয়ে ক্ষুধার জ্বালায় ভিক্ষাবৃত্তিকেই বেছে নিতে হয়েছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের বারাই চেয়ারম্যান পাড়া গ্রামের মৃত হরেন্দ্রনাথ মহন্তের স্ত্রী মতি লতা রানীকে।
এখন তিনি মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পেতে জীবন চালান। পাতারু মহন্ত নামে তার ছেলেটি দেনার দায়ে এখন নিরুদ্দেশ। মেয়ে সুমিত্রা মহন্তের বিয়ে হয়েছে। থাকেন স্বামীর ঘরে অন্যত্র। এই বৃদ্ধ বয়সে নিজের বলতে কিছুই নেই। অন্যের জমিতে টিনের একটি ছাপড়া তুলে থাকেন।
বয়স হয়ে যাওয়ায় এখন কানেও শুনতে পান না তিনি। ভূমিহীন এই বিধবা ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনো রকমে বেঁচে আছেন। অথচ সরকারি বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা কিংবা প্রতিবন্ধী ভাতাÑ এর কোনোটাই পান না তিনি। ভূমিহীন ও ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের জন্যও সরকারিভাবে আলাদা ব্যবস্থা আছে। এর পরেও তাকে দেয়া হয়নি সরকারি কোনো সুবিধা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে স্বামী হরেন্দ্রনাথ মহন্ত মারা গেছেন। ওই গ্রামের নিতাই নামের এক ব্যক্তি দয়া করে লতা রানীকে থাকার জায়গা দিয়েছেন। সেখানেই কোনো রকমে ছাপড়া ঘর বানিয়ে জীবন যাবন করেন লতা রানী।
আলাদিপুরের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মতি লতা রানী আমার প্রতিবেশী। তিনি অবশ্যই সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। চেয়ারম্যান নিজে পুরো ইউনিয়নে ৭০০-৮০০ ভাতা কার্ড দিয়েছেন। কিন্তু আমি কার্ডের কোনো বরাদ্দ পাইনি। তাই তাকে কার্ড করে দেয়া সম্ভব হয়নি।
আলাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাজমুস সাকির বাবুল বলেন, আমার ইউনিয়নে ৯টি ওয়ার্ড। এতোগুলো এলাকার মানুষের খোঁজ রাখা সম্ভব না। তা ছাড়া নতুন করে ভাতা কার্ড করতে হলে কার্ডধারী কেউ মারা গেলে, সেই জায়গা খালি হলে তবেই সম্ভব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আল কামাহ্ তমাল বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তার নাম ঠিকানা আমাকে দেন, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা করে দেবো।
আরো সংবাদ
-
- ৫ঃ ৪০
- খেলা