ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক সমাধান এখনো নাগালের মধ্যেই রয়েছে এবং উভয় পক্ষ চাইলে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতিকে তিনি “অপ্রয়োজনীয় ও অকার্যকর” বলে মন্তব্য করেছেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এমএস নাউ–কে দেয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কোনো সামরিক সমাধান নেই। “একটি কূটনৈতিক সমাধান আমাদের হাতের নাগালেই; আমরা সহজেই তা অর্জন করতে পারি,”—বলেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিমানবাহী রণতরী ও ডজনখানেক যুদ্ধবিমান মোতায়েনের প্রসঙ্গে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, সামরিক বিকল্প পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলবে এবং এর ফলাফল পুরো অঞ্চল এমনকি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। গত দুই দশকের আলোচনার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি চুক্তি সম্ভব—তবে তা হতে হবে ন্যায্য ও ‘উইন-উইন’ ভিত্তিক।
আরাঘচির সাক্ষাৎকারের কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত হামলার সম্ভাবনা তিনি বিবেচনা করছেন। এর আগে তিনি তেহরানকে ১০ দিনের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছানোর আল্টিমেটাম দেন; পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ১৫ দিন পর্যন্ত করেন। গত সপ্তাহে তিনি বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যেই একটি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়া উচিত।
গত এক মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরান দুই দফা বৈঠক করেছে, এবং উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা আলোচনাকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছেন। তবে এ সময়ে ইরানের আশপাশে মার্কিন সামরিক সম্পদ জোরদার করা অব্যাহত রয়েছে। জাহাজ-ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড জিব্রাল্টার প্রণালী পেরিয়ে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে, যার গন্তব্য উপসাগরীয় অঞ্চল।
গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে সমন্বয়ে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, ওই হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি “সম্পূর্ণ ধ্বংস” হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পক্ষ থেকে কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি; উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অবস্থান সম্পর্কেও প্রকাশ্য তথ্য নেই।
ইরান পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি)-এর অধীনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার রয়েছে বলে দাবি করে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা অতীতে ইরানকে সম্পূর্ণভাবে পারমাণবিক কর্মসূচি গুটিয়ে নেয়ার আহ্বান জানালেও, আরাঘচি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র শূন্য সমৃদ্ধকরণের দাবি তোলেনি,”—যা ওয়াশিংটনের প্রকাশ্য অবস্থানের সাথে কিছুটা ভিন্ন ইঙ্গিত দেয়।
ইরান জানিয়েছে, তারা কঠোর নজরদারি ও সীমাবদ্ধতা মেনে নিতে প্রস্তুত, তবে পুরো কর্মসূচি বাতিল করবে না। আরাঘচির ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী ধাপে ইরান একটি লিখিত প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের আলোচক দলের কাছে দেবে। মার্কিন পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এরপর খসড়া চুক্তির ভাষা নিয়ে আলোচনা করে সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা প্রকাশ করেন তিনি।
“আমরা কিছু নির্দেশক নীতিতে একমত হয়েছি—চুক্তির কাঠামো কেমন হবে সে বিষয়ে,” বলেন আরাঘচি। “পরবর্তী বৈঠকে খসড়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে একটি উপসংহারে পৌঁছানো সম্ভব বলে আমরা আশাবাদী।”



