মিয়ানমারে পাচারকালে সিমেন্টবোঝাই দুই বোটসহ আটক ১৯

‘দেশের সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সমুদ্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নৌবাহিনী নিয়মিত টহল পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার সেন্টমার্টিন দ্বীপ-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে ১১৪০ বস্তা সিমেন্টসহ দু’টি ইঞ্জিনচালিত বোট এবং ১৯ জন চোরাকারবারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বাংলাদেশ নৌবাহিনী
বাংলাদেশ নৌবাহিনী |সংগৃহীত

মিয়ানমারে পাচারকালে সিমেন্টবোঝাই দু’টি বোটসহ ১৯ জন চোরাকারবারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সমুদ্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নৌবাহিনী নিয়মিত টহল পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার সেন্টমার্টিন দ্বীপ-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে ১১৪০ বস্তা সিমেন্টসহ দু’টি ইঞ্জিনচালিত বোট এবং ১৯ জন চোরাকারবারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

সমুদ্রপথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে সিমেন্ট মিয়ানমারে পাচার পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সেন্টমার্টিন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় টহল জোরদার করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ সময় টহল কার্যে নিয়োজিত থাকাকালীন বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ ‘প্রত্যাশা’ সেন্টমার্টিন বাতিঘর থেকে ৩৮ মাইল দূরে সন্দেহজনক বোট দেখতে পায়। নৌবাহিনী জাহাজ বোটটি তল্লাশির লক্ষ্যে থামার সঙ্কেত প্রদান করলে, তারা পালানোর চেষ্টা করে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ প্রত্যাশা ধাওয়া করে ‘এফবি সীমান্ত’ নামক বোটটি আটক করে। আটককৃত বোটটি তল্লাশি করে ৪৫০ বস্তা সিমেন্ট, ২৫০ কেজি ডাল-চানা, ১৬০ কেজি আদা এবং ৩৬০ বোতল এনার্জি ড্রিংক উদ্ধার করা হয়।

অপরদিকে একই এলাকায় পৃথক অভিযানে সন্দেহজনকভাবে চলাচলরত ‘এফবি সুরভি’ নামক আরো একটি ফিশিং বোট আটক করা হয়। এ সময় বোটটি তল্লাশি করে ৭০০ বস্তা সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়। আটককৃত উভয় বোটে চোরাকারবারী দলের ১৯ জন সদস্যকেও আটক করা হয়।

আটকৃত ব্যক্তিদের সূত্রে জানা যায়, অধিক মুনাফা লাভের আশায় সিমেন্টগুলো মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল। পরবর্তী সময়ে জব্দকৃত মালামাল ও আটকৃত ব্যক্তিদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নৌবাহিনীর ফরোয়ার্ড বেইজ সেন্টমার্টিনে হস্তান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস, মাদক চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে নৌবাহিনীর অভিযান ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।